নিউজ ডেস্ক: শরীরে হঠাৎ একদিকে জ্বালা, ব্যথা, ঝিনঝিনে অনুভূতি, তারপর ছোট ছোট ফোসকা, অনেকেই এই উপসর্গকে সাধারণ ত্বকের সমস্যা বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু শিংলস বা হারপিস জস্টার নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণার তথ্য বলছে, বিষয়টি এতটা সরল নয়। ত্বকে ফুসকুড়ি তৈরি করা এই ভাইরাসজনিত সংক্রমণের সঙ্গে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক এবং রক্তনালির বিভিন্ন সমস্যার সম্ভাব্য সম্পর্ক পাওয়া গিয়েছে। বিশেষ করে সংক্রমণের পরের প্রথম কয়েক সপ্তাহকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
শিংলস আসলে নতুন করে শরীরে ঢোকা কোনও ভাইরাসের সংক্রমণ নয়। এর নেপথ্যে রয়েছে ভ্যারিসেলা-জস্টার ভাইরাস, যে ভাইরাস জলবসন্তের কারণ। জলবসন্ত সেরে যাওয়ার পরও এই ভাইরাস শরীরের স্নায়ুতন্ত্রে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থেকে যেতে পারে। পরবর্তী সময়ে তা আবার সক্রিয় হলে শিংলস দেখা দেয়।
সাধারণত শরীরের কোনও একটি নির্দিষ্ট অংশে প্রথমে ব্যথা, জ্বালা বা ঝিনঝিনে অনুভূতি শুরু হয়। তার কিছু সময় পর সেই জায়গায় ফোসকা বা র্যাশ দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যথা এতটাই তীব্র হয় যে দৈনন্দিন জীবনযাপনও কঠিন হয়ে পড়ে। আবার র্যাশ সেরে যাওয়ার পরেও দীর্ঘদিন স্নায়ুর ব্যথা থেকে যেতে পারে।
তবে উদ্বেগের জায়গা অন্যত্র। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত গবেষণাগুলিতে দেখা গিয়েছে, শিংলসের পর বিশেষ করে প্রথম সপ্তাহে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে। কিছু গবেষণায় সংক্রমণের পর হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বৃদ্ধিরও ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভাইরাসের সক্রিয়তা এবং শরীরে তৈরি হওয়া প্রদাহ রক্তনালির উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে শিংলস হলেই স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক হবে, এমন কোনও সিদ্ধান্ত গবেষণাগুলি দেয়নি।
বরং বয়সের সঙ্গে থাকা অন্যান্য ঝুঁকিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান এবং বেশি কোলেস্টেরল হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের বড় ঝুঁকির কারণ। তাই শিংলসের পাশাপাশি এই বিষয়গুলিও নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
আর শিংলসের ক্ষেত্রে চিকিৎসায় দেরি না করাটাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, র্যাশ বা ফোসকা দেখা দেওয়ার পর প্রথম ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা শুরু করা গেলে ভাইরাসের সক্রিয়তা, প্রদাহ, ব্যথা এবং জটিলতা কমাতে সাহায্য করতে পারে। অ্যাসাইক্লোভির, ভ্যালাসাইক্লোভির বা ফ্যামসাইক্লোভিরের মতো ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করা হয়।
শিংলস প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও রয়েছে টিকার সুযোগ। নতুন দুই ডোজের রিকম্বিন্যান্ট শিংলস ভ্যাকসিন শিংলসের ঝুঁকি প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে। সাধারণত ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য এই টিকা বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয়। যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রেও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী টিকা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
সবচেয়ে বেশি সতর্ক হতে হবে চোখের আশপাশে র্যাশ দেখা দিলে। কারণ চোখ আক্রান্ত হলে গুরুতর জটিলতা এবং দৃষ্টিশক্তির সমস্যাও হতে পারে।
তাই শরীরের একদিকে অস্বাভাবিক জ্বালা, ব্যথা বা ফোসকা দেখা দিলে সেটিকে শুধুই ত্বকের সমস্যা ভেবে ফেলে রাখা ঠিক নয়। সময়মতো চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতাই শিংলসের জটিলতা কমানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
