বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটু, কোমর কিংবা শরীরের অন্যান্য অস্থিসন্ধিতে ব্যথা হওয়াকে অনেকেই স্বাভাবিক বলে ধরে নেন। কিন্তু প্রতিটি ক্ষেত্রে বয়সকে দায়ী করা ঠিক নয়। দীর্ঘদিন ধরে ব্যথা থাকা, বারবার ফিরে আসা কিংবা ধীরে ধীরে ব্যথা বাড়তে থাকলে তার পিছনে অন্য কোনও শারীরিক সমস্যা থাকতে পারে। ক্লান্তি ভাব, আলস্য কয়েক গুণ বেড়ে যায়। যাঁরা দীর্ঘ ক্ষণ দাঁড়িয়ে বা বসে কাজ করেন, তাঁদের পায়ের পাতায় ও গোড়ালিতে ব্যথাও বাড়ে। অস্থিসন্ধির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি।
১. শরীরচর্চা বন্ধ করবেন না
অস্থিসন্ধিতে সমস্যা থাকলেও একেবারে নড়াচড়া বন্ধ করে দেওয়া ঠিক নয়। হাঁটা, সাঁতার, সাইক্লিং, স্ট্রেচিং এবং হালকা শক্তিবর্ধক ব্যায়াম পেশির শক্তি ও নমনীয়তা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। তবে আচমকা শরীরচর্চার মাত্রা বা সময় বাড়ানো উচিত নয়।
২. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
অতিরিক্ত ওজনের সরাসরি চাপ পড়ে হাঁটু, গোড়ালি ও কোমরের মতো ওজন বহনকারী অস্থিসন্ধিতে। ফলে অস্বস্তি বাড়তে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্ষয়ের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই সুষম খাবার এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
৩. বসা ও চলাফেরার ভঙ্গিতে নজর দিন
দীর্ঘক্ষণ একইভাবে বসে থাকা এড়িয়ে চলা দরকার। কাজের ফাঁকে নিয়মিত উঠে কিছুটা হাঁটাচলা করা উচিত। ভারী জিনিস তোলার সময় সঠিক পদ্ধতি মেনে চলা এবং আরামদায়ক ও সহায়ক জুতো পরাও অস্থিসন্ধির উপর অপ্রয়োজনীয় চাপ কমাতে পারে।
৪. পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন
শরীরচর্চার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামও প্রয়োজন। ঘুমের ঘাটতি ব্যথা অনুভব করার প্রবণতা বাড়াতে পারে। ব্যায়ামের পর শরীরকে পুনরুদ্ধারের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়াও জরুরি।
৫. নিজের ইচ্ছায় নিয়মিত ব্যথার ওষুধ খাবেন না
অস্থিসন্ধিতে ব্যথা হলেই দীর্ঘদিন ধরে নিজে থেকে পেনকিলার খাওয়া উচিত নয়। কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্যথা থাকলে, অস্থিসন্ধি ফুলে গেলে, শক্ত হয়ে গেলে বা নড়াচড়ায় সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। চোটের পর ব্যথা শুরু হলেও বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।
অর্থাৎ, বয়স বাড়ার সঙ্গে কিছুটা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে ঠিকই, কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী বা বাড়তে থাকা অস্থিসন্ধির ব্যথাকে শুধুমাত্র বয়সের স্বাভাবিক ফল হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। সময়মতো কারণ চিহ্নিত করা গেলে অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
