নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে প্রতিবাদে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল রাজধানীতে। বিরোধী সাংসদদের সামনে দাঁড়িয়ে এবার কেন্দ্রীয় সরকারকে নিয়ে বড় দাবি করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর বক্তব্য, গত তিন-চার দিনের মতো বিরোধীরা আন্দোলন চালিয়ে গেলে সরকার পড়ে যাবে। শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাতের আগে সংসদের সেন্ট্রাল হলে INDIA জোটের সাংসদদের উদ্দেশে এই মন্তব্য করেন তিনি বলে জানা গিয়েছে।
রাহুল গান্ধীর কথায়, “আমরা যদি গত তিন-চার দিনের মতোই চাপ বজায় রাখি, আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি, এই সরকার পড়ে যাবে।” তাঁর দাবি, বিরোধীদের লাগাতার প্রতিবাদে সরকারের ভিত নড়ে গিয়েছে এবং শাসকপক্ষ এখন আতঙ্কিত। তবে সরকারের পতন নিয়ে এটি রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক দাবি, নিশ্চিত কোনও পরিণতি নয়।
জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে কেন আন্দোলন?
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছে INDIA জোট। বিরোধীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন বিরোধী নেতারা।
রাহুল গান্ধীর বক্তব্য, সমস্যা শুধু জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে নয়, এর পিছনে আরও বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারকে সরানোর দাবিও এই লড়াইয়ের অংশ। নির্বাচন কমিশনকে তিনি জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে জবাবদিহি করার দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
রাষ্ট্রপতি ভবন অভিযানে বিরোধীরা
বুধবার, ৭ অক্টোবর, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে সংসদ থেকে তিনটি বাসে করে যন্তর মন্তরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন বিরোধী সাংসদরা। কিন্তু জনপথে দিল্লি পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়। এর পর থেকেই বিরোধীদের আন্দোলন আরও জোরদার হয়েছে।
একদিকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগ ও আন্দোলন, অন্যদিকে উপনির্বাচনে বিজেপির সাফল্যকে সামনে রেখে বিরোধীদের আক্রমণ করছে শাসক শিবিরনির্বাচন কমিশনের কার্যপদ্ধতি এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ চাওয়াই তাঁদের অন্যতম উদ্দেশ্য।
‘অসততার কাঠামো ভেঙে ফেলতে হবে’, দাবি মনোজ ঝার
রাষ্ট্রপতি ভবনের উদ্দেশে যাত্রার আগে RJD সাংসদ মনোজ কুমার ঝা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন। তাঁর বক্তব্য, “অসততার গোটা কাঠামো ভেঙে ফেলতে হবে।” একই সঙ্গে কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে যাঁরা পথে নেমেছেন, তাঁদের সকলকে তিনি সম্মান জানান। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেও সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন। দিল্লিতে মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা এবং ট্রেন পরিষেবা বাতিলের প্রসঙ্গ তুলে তিনি সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
রাজনৈতিক সংঘাত কোন দিকে?
একদিকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগ ও আন্দোলন, অন্যদিকে উপনির্বাচনে বিজেপির সাফল্যকে সামনে রেখে বিরোধীদের আক্রমণ করছে শাসক শিবির। ফলে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, SIR প্রক্রিয়া এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির কাছে বিরোধীদের স্মারকলিপি পেশের পর কী পদক্ষেপ হয় এবং এই আন্দোলন সংসদীয় রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
