নয়াদিল্লি: দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিরোধীদের প্রতিবাদ যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় উপনির্বাচনের ফলাফলকে হাতিয়ার করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পশ্চিমবঙ্গ, অসম ও পুদুচেরির উপনির্বাচনে জয় এবং সাম্প্রতিক রাজস্থান ও ত্রিপুরার পুর নির্বাচনের ফলাফল তুলে ধরে INDIA জোটকে কটাক্ষ করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, রাহুল গান্ধী ও বিরোধীরা মিথ্যা, বিভ্রান্তি এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করছেন।
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে অমিত শাহ দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি একের পর এক নির্বাচনে জয় পাচ্ছে। বিরোধীদের প্রচার সত্ত্বেও ভোটাররা বিজেপির উপর আস্থা রেখেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
শাহের বক্তব্য, জনসমর্থন হারিয়েই বিরোধীরা প্রতিটি নির্বাচনে পরাজয়ের পর বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে। তাঁর দাবি, বিরোধীদের এই রাজনৈতিক অবস্থান মানুষ বুঝতে পেরেছেন। সেই কারণেই আবারও বিজেপির প্রতি নিজেদের আস্থা প্রকাশ করেছেন ভোটাররা। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলার পিছনে নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে।
বাংলার দুই আসনে বিজেপির জয়
পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ফলাফল বিজেপির কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে, রেজিনগরেও বিজেপি প্রার্থী শঙ্করাভ সরকার জয় পেয়েছেন বলে ফলাফল সংক্রান্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এই ফলাফলকে সামনে রেখেই রাজ্যে বিরোধীদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিজেপি।
অসমের নগাঁও লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনেও বিজেপি প্রার্থী দেবাশিস শর্মার জয়ের খবর সামনে এসেছে। পুদুচেরির ঠাট্টানচাভাডি আসনে জয় পেয়েছেন এআইএনআরসি প্রার্থী অশোক আনন্দ। অমিত শাহ এই ফলাফলগুলিকে বিজেপি ও তার সহযোগীদের প্রতি জনসমর্থনের প্রতিফলন হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
নির্বাচন কমিশন নিয়ে সংঘাত অব্যাহত
অন্যদিকে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বিরোধী শিবির। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাহুল গান্ধী-সহ একাধিক বিরোধী নেতা। এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজেদের অভিযোগ জানানোর উদ্যোগও নিয়েছে INDIA জোটের প্রতিনিধিদল।
ফলে একদিকে উপনির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে বিজেপির রাজনৈতিক আক্রমণ, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিরোধীদের প্রতিবাদ দুইয়ের সংঘাতে জাতীয় রাজনীতির উত্তাপ আরও বাড়ল।
