শিলিগুড়ি, নিউজ ডেস্ক : দীর্ঘদিন ধরে থমকে যাওয়া একটি উদ্যোগকে ঘিরে এবার নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। পুরনো কাঠামোকে নতুন করে কাজে লাগানো, সংশ্লিষ্টদের স্বার্থ রক্ষা এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সবকিছুই নিয়ে চলছে ভাবনা চিন্তা। তবে, শুধু পরিকাঠামোর সংস্কার নয়, এর পরিচয় নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। রাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে তাই এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
শিলিগুড়ির কাওয়াখালীতে অবস্থিত বিশ্ব বাংলা শিল্পী হাটের নাম পরিবর্তনের সম্ভাবনা ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা। কাওয়াখালির বিশ্ববাংলা শিল্পী হাটের নাম পরিবর্তনের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিলেন ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প দপ্তরের মন্ত্রী দীপক বর্মন। তবে, নাম পরিবর্তনের চেয়েও বর্তমানে এই দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা শিল্পী হাটকে পুনরায় চালু করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি। এদিন দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে কাওয়াখালির শিল্পী হাট পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। পরিদর্শনের সময় হাটের বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি। শিল্পীদের স্বার্থে কীভাবে এই হাটকে নতুন করে সাজিয়ে তোলা যায়, শিল্পীদের কাজের উপযোগী করে তোলা যায় এবং নিয়মিতভাবে চালু করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা হয়।
পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী জানান, শিল্পী হাটটিকে নতুন করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। যাতে শিল্পীরা তাদের তৈরি সামগ্রিক প্রদর্শন ও বিক্রির জন্য এই হাটকে নিজেদের কাজের জন্য কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত এই পরিকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে শিল্পীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরির ভাবনা রয়েছে। বিশ্ববাংলা নামের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্ব বাংলার বর্তমানে কোনও অস্তিত্ব নেই। তাই ওই নাম রাখার বিষয়টিও আলোচনার মধ্যে রয়েছে। তবে তাঁর মতে, নাম পরিবর্তনের চেয়ে শিল্পী হাটটিকে পুনরায় চালু করা এবং নিয়মিতভাবে পরিচালনা নিশ্চিত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
পাশাপাশি মন্ত্রী আরও জানান, এই বিষয়ে একাধিক দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আলোচনার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে। শিল্পী হাটটিকে যত দ্রুত সম্ভব নিয়মিতভাবে চালু করা যায়, সেই বিষয়েই এখন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে, কবে থেকে শিল্পী হাটটি চালু হবে শেষ পর্যন্ত নাম পরিবর্তন করা হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। একইসঙ্গে, শিল্পী হাটের নাম পরিবর্তন কিংবা পুনরায় চালুর বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি। এখন সংশ্লিষ্ট আলোচনা ও পরিকল্পনার ভিত্তিতে এই শিল্পী হাটের ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোয়, সেদিকেই নজর রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা এই শিল্পী হাট নতুন করে চালু হলে স্থানীয় শিল্পী ও ক্ষুদ্র উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা উপকৃত হতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে। এখন সরকারের পরিকল্পনা কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।
