নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্কে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজধানীর রাজনীতি। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে এবার ‘অসততার গোটা কাঠামো’ ভেঙে ফেলার ডাক দিলেন বিরোধী সাংসদরা। শুক্রবার রাষ্ট্রপতি ভবনের উদ্দেশে মিছিল শুরুর আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরব হন রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (RJD) সাংসদ মনোজ কুমার ঝা। একই সঙ্গে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের কথা তুলে ধরেন কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ।
মনোজ কুমার ঝা বলেন, “গোটা দেশের দাবি একই—অসততার সম্পূর্ণ কাঠামো ভেঙে ফেলতে হবে। আর জ্ঞানেশ কুমার সেই কাঠামোর সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের কাজকর্মে নিরপেক্ষতার অভাব রয়েছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছে INDIA জোট। বিরোধী নেতাদের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। যদিও বিরোধীদের এই অভিযোগগুলি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
‘গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে পথে নেমেছেন দেশপ্রেমীরা’, মন্তব্য গৌরব গগৈয়ের
অন্যদিকে, কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ আন্দোলনের পক্ষে সওয়াল করে বলেন, দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার কাজে দেশপ্রেমীরা নিজেদের মতো করে যুক্ত রয়েছেন। তাঁরা কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য হোন বা না হোন, গণতন্ত্র রক্ষার প্রচেষ্টায় তাঁদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানানো প্রত্যেককে কুর্নিশও জানান গগৈ।
বিরোধীদের এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে নিজেদের অভিযোগ ও দাবি তুলে ধরা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ চাইতে ১০ সদস্যের একটি বিরোধী প্রতিনিধিদল সাক্ষাতের উদ্যোগ নিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক সংঘাত
গত কয়েক দিন ধরেই দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের প্রতিবাদ চলছে। রাহুল গান্ধী-সহ একাধিক বিরোধী নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে, বিজেপি বিরোধীদের এই অবস্থানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আক্রমণ করেছে।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকের পর বিরোধীরা কী পদক্ষেপ করেন, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ, SIR বিতর্ক এবং বিরোধীদের আন্দোলন সব মিলিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে সংঘাত আরও তীব্র হচ্ছে। তবে বিরোধীদের অভিযোগের সত্যতা এবং এই বিষয়ে পরবর্তী কোনও পদক্ষেপের জন্য আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়েছে।
