দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নিউজ ডেস্ক: স্কুলের ক্লাসরুমে তখন সাধারণত পড়াশোনা চলার কথা। স্কুলের গেট খুলেছে, একে একে ঢুকেছে পড়ুয়ারা, তাঁদের কারও হাতে বই আর কারও হাতে ব্যাগ। স্কুলের মধ্যে ছোটদের এই চেনা ব্যস্ততা থাকাই স্বাভাবিক। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে সেই ছবিটাই যেন উধাও হয়ে গিয়েছে। স্কুলে ঢোকার পর থেকেই পড়ুয়ার মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে অজানা ভয়। কেউ বলেছে চোখের সামনে অদ্ভুত কিছু দেখেছে, কেউ আবার শরীরে অদ্ভুত দাগ নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। যে জায়গায় প্রতিদিন হাসি ও আনন্দে ভরে থাকে, সেখানেই এখন যেন ভয়ের ছায়া। শেষপর্যন্ত বিষয়টি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, স্কুল চত্বরে শুরু হয়েছে নজরদারি।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা ব্লকের জিপ্লট গ্রাম পঞ্চায়েতের গোবর্ধনপুর কোস্টাল থানার তালতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ঘিরে এই ঘটনা সামনে এসেছে। পড়ুয়াদের একাংশের দাবি, স্কুলের ভিতরে তাঁরা সাদা কাপড় পরা একটি অদ্ভুত অবয়ব দেখতে পেয়েছে। কখনও সেই অবয়বকে বেঞ্চের ওপর বসে থাকতে, আবার কখনও পা দোলাতে দেখা গিয়েছে বলেও দাবি করেছে তাঁরা। এতেই শেষ নয়। রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে পড়ুয়াদের শরীরে আঁচড় ও কামড়ের মত দাগ দেখা দেওয়ায়। কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রীকে আতঙ্কিত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
গত মঙ্গলবার থেকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন নতুন করে নানা দাবি সামনে আসায় রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে। এমনকি, অনেক পড়ুয়া ভয়ে স্কুলে আসতে চাইছেন না। সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের একাংশও তাঁদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। খবর ছড়িয়ে পড়তে স্কুল চত্বরে ভিড় করেছেন অভিভাবক, শিক্ষক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি যাতে আরও উত্তপ্ত না হয় এবং পাশাপাশি কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তাই নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসনের তরফ থেকে স্কুল চত্বরে পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তবে, সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে পড়ুয়াদের শরীরে থাকা সেই অদ্ভুত দাগগুলি নিয়ে। রহস্যর সমাধানও এখনও হয়নি। পড়ুয়ারা যে সাদা কাপড় পরিহিত অবয়ব দেখার দাবি করেছে সেটি কি কোনও মানুষের উপস্থিতি, নাকি অন্য কোনও কারণ, এই প্রশ্ন এখন সবার মনে। যার উত্তর এখনও অজানা। তাই, আতঙ্কের পাশাপাশি বাড়ছে কৌতুহলও। প্রশাসনের তদন্তের দিকেই এখন আস্থা এলাকার মানুষের।