স্পোর্টস ডেস্ক: বয়স নিয়ে তথ্য গোপন কিংবা নথিতে অসঙ্গতির ক্ষেত্রে এ বার আর কোনও ভাবেই রেয়াত নয়। বয়স ভাঁড়ানোর অভিযোগে নির্বাসনে পাঠানো হল দেশের এক বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটারকে। পাশাপাশি একই কারণে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড দু’বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে বাংলার লেগস্পিনার রোহিত যাদবকেও। উল্লেখ্য, কয়েক সপ্তাহ আগেই অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে আসন্ন অনূর্ধ্ব-১৯ সিরিজের জন্য ভারতীয় দলে জায়গা পেয়েছিলেন রোহিত। তার আগে শ্রীলঙ্কা সফরেও ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলেছিলেন তিনি। সেই সফরে ৬টি উইকেটও নেন। এমনকি একটি টেস্ট জেতাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর। কিন্তু নথিপত্র খতিয়ে দেখতে গিয়ে সামনে আসে বয়স নিয়ে বড়সড় অসঙ্গতি।
রোহিতের ক্ষেত্রে একই ব্যক্তির নামে তিনটি জন্ম শংসাপত্রের হদিস মিলেছে। তিনটিতে জন্মসাল যথাক্রমে ২০০৭, ২০০৯ এবং ২০১০। ফলে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে তাঁর যোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠে যায়। শুধু জন্ম শংসাপত্র নয়। আধার কার্ডের নথিতেও একাধিক পরিবর্তনের তথ্য সামনে এসেছে। বাংলার ক্রিকেট সংস্থায় নথিভুক্ত হওয়ার সময় তাঁর জন্মসাল ছিল ২০০৭। পরে ২০১৭ এবং ২০২০ সালের আধার আপডেটে ২০০৬ সাল দেখা যায়। ২০২১ সালে ফের তা বদলে ২০০৯ করা হয়। বিষয়টি নজরে আসার পরই বাংলার জুনিয়র দল থেকে রোহিতকে সরিয়ে দিয়েছিল সিএবি। পরে গোটা বিষয়টি জানানো হয় বিসিসিআইকে।
সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই রোহিতের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করেছে বোর্ড। আগামী দু’বছর ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলতে পারবেন না তিনি। একই সঙ্গে দেশের সমস্ত অনুমোদিত রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাকেও বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে রোহিত একা নন। বয়স ভাঁড়ানো ও নথিপত্র সংক্রান্ত অসঙ্গতির অভিযোগে ২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-২৮ মরশুমে মোট ৬২ জন ক্রিকেটারকে রেজিস্ট্রেশন বা ট্রান্সফারের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করেছে সিএবি। অর্থাৎ আগামী দু’টি মরশূমে কোনও প্রতিযোগিতাতেই নথিভুক্ত করা যাবে না তাঁদের নাম। সবথেকে চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, এই তালিকায় রয়েছেন ভারতের হয়ে ২০২২ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার রবি কুমারও।
বাঁহাতি পেসার রবি যখন বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন দেশকে, তখন ধরা পড়েনি যে তিনি বয়স ভাঁড়িয়ে খেলছেন। তবে এ বার সিএবি-র নথিতে তাঁর জন্মতারিখ নিয়ে প্রায় ৪৫ মাসের ব্যবধান ধরা পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। তালিকায় রয়েছেন বাঁহাতি স্পিন অলরাউন্ডার বিশাল ভাট্টিও। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তিনটি এবং লিস্ট এ-তে দু’টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ক্রিকেটারদের নথি আরও কড়াভাবে যাচাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিএবি। সেই বৃহত্তর অভিযানের অংশ হিসাবেই ৬২ জনের নাম প্রকাশ্যে এসেছে।