নিউজ ডেস্ক: বিচারব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা এ বার আন্তর্জাতিক মঞ্চে। শুক্রবার থেকে দিল্লিতে শুরু হল ব্রিকস চিফ জাস্টিস ফোরাম। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের উদ্যোগে এই সম্মেলন চলবে আগামী ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির প্রধান বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের প্রেসিডেন্ট এবং শীর্ষস্তরের বিচারবিভাগীয় কর্তাদের পাশাপাশি অংশ নিচ্ছেন সহযোগী দেশগুলির প্রতিনিধিরাও। সম্মেলনের প্রথম দিনেই বিভিন্ন দেশের বিচারবিভাগীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। আন্তর্জাতিক স্তরে বিচারব্যবস্থার সামনে তৈরি হওয়া নতুন চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা নিয়েই মূলত এই আলোচনার আবহ তৈরি হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, সম্মেলনের অন্যতম লক্ষ্য হল বিভিন্ন দেশের বিচারব্যবস্থার মধ্যে মতামত ও অভিজ্ঞতা বিনিময়। বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রযুক্তির ব্যবহার, আন্তর্জাতিক বিবাদ মীমাংসা, বিচারব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নের মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক বিবাদ মেটাতে মধ্যস্থতার ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা। পাশাপাশি এক দেশের আদালত বা সালিশি ব্যবস্থায় দেওয়া রায় অন্য দেশে কার্যকর করার ক্ষেত্রে যে আইনি জটিলতা দেখা দেয়, তা নিয়েও মতবিনিময় করবেন বিচারপতিরা।
সম্মেলনের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)। বিচারব্যবস্থায় দ্রুত প্রযুক্তির প্রবেশের ফলে একদিকে যেমন কাজের গতি বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে তেমনই তথ্যের নির্ভুলতা, গোপনীয়তা এবং বিচারিক স্বাধীনতা নিয়ে নতুন প্রশ্নও উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে আদালতের কাজে এআই কী ভাবে ব্যবহার করা যায় এবং তার সীমারেখা কোথায় হওয়া উচিত, তা নিয়ে আলোচনা করবেন বিভিন্ন দেশের বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা। বিচারিক নেতৃত্ব এবং টেকসই উন্নয়নও থাকছে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে।
প্রথম দিনেই রাশিয়া, চিন, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, বেলারুশ, কাজাখস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইরান এবং উজবেকিস্তানের বিচারবিভাগীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা দেশের প্রধান বিচারপতির। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ইগর ক্রাসনভ, চিনের সুপ্রিম পিপলস কোর্টের প্রেসিডেন্ট ঝাং জুন, ইন্দোনেশিয়ার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুনার্তো এবং ইরানের প্রধান বিচারপতি আয়াতোল্লা গোলাম হোসেন মোহসেনি-এজেই। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে সদস্য ও সহযোগী দেশগুলির প্রতিনিধিরা তাঁদের মতামত তুলে ধরবেন। ব্রাজিল, চিন, মিশর, ইথিয়োপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহী-সহ একাধিক দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার কথা।