কলকাতা, নিউজ ডেস্ক - একটা নাম উচ্চারণ করলে যেন চোখের সামনে ভেসে ওঠে সাদা-কালো পর্দা, এবং হলের মধ্যে দর্শকদের উচ্ছ্বাস ও আনন্দ। পর্দায় তাঁর এক ঝলক উপস্থিতি বদলে দিত গোটা হলের আবহ। সংলাপ শুরু হওয়ার আগেই দর্শকদের মনে জেগে উঠতো এক অদ্ভুত প্রত্যাশা। সময়ের সাথে সিনেমার ভাষা বদলেছে এবং পাশাপাশি দর্শকদের রুচিও বদলেছে। কিন্তু বাঙালির হৃদয়ে সেই মানুষটির জায়গা আজও একইরকম। গোটা বাঙালির কাছে আবেগের অপর নাম উত্তম কুমার। চারদশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেই আকর্ষণে এতোটুকুও ভাটা নামেনি। এবার সেই ভালোবাসার স্মৃতিকে স্থায়ী রূপ দিতে শহরের বুকে এক বিশেষ ঠিকানা তৈরি হতে চলেছে। যার সাথে বাংলা সিনেমার এক স্বর্ণযুগের স্মৃতি জড়িয়ে থাকবে।
সূত্রে খবর, শুক্রবার মহানায়ক উত্তমকুমারের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে কলকাতার নিউটাউনে ইকোপার্কের কাছে প্রস্তাবিত 'উত্তমকুমার ফিল্ম সেন্টার' এর ভূমি পূজো ও শিলান্যাস অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল ১১ টা নাগাদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত আছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মহানায়কের জন্মশতবর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে এই বিশেষ চলচ্চিত্রকেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে এই প্রকল্পের জন্য ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আধুনিক পরিকাঠামো দ্বারা সজ্জিত এই কেন্দ্র ভবিষ্যতে বাংলা চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত শিল্পীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হয়েছে। এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য মহানায়ক উত্তম কুমারের স্মৃতিকে সংরক্ষণ করার পাশাপাশি বাংলা চলচ্চিত্রের গৌরব ফিরিয়ে আনা।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী উত্তম কুমারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, মহানায়ক শুধুমাত্র একজন অভিনেতা নন, তিনি বাঙালির আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি নাম। তাঁর কথায় উত্তমকুমারের অসংখ্য ভক্ত এবং অনুগামী রয়েছেন। বাঙালির গর্ব তিনি। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী এই ফিল্ম সিটি তিনটি অংশে গড়ে উঠবে। থাকবে ৭৫০ আসনের দুটি সিনেমা হল, ফুডকোর্ট এবং পার্কিং এর ব্যবস্থা। এর পাশাপাশি তৈরি হবে ১০০০ আসনের অডিটোরিয়াম এবং ওপেন এয়ার থিয়েটার। অর্থাৎ সিনেমা প্রদর্শনের পাশাপাশি বড় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনেরও সুবিধা থাকবে এখানে।
এদিন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, খুব শীঘ্রই অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীকে 'উত্তমকুমার ফিল্ম সেন্টারের' কালচারাল অ্যাডভাইজার করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই উত্তমকুমারের জন্মশতবার্ষিকী বড় আকারে পালনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী। ফলে, মহানায়কের জন্মশতবর্ষে শুধু স্মৃতিচারণ নয়, বাংলা চলচ্চিত্রকে নতুন দিশা দেখানোর বার্তাও উঠে এল নিউটাউনের এই মঞ্চ থেকে।
মহানায়কের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে নিউটাউন ছাড়াও কলকাতার একাধিক জায়গায় চলছে বিশেষ অনুষ্ঠান। শুক্রবার বিকেল চারটেয় নন্দন-১ প্রেক্ষাগৃহে সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী 'নায়ক' প্রদর্শনের মাধ্যমে শুরু হচ্ছে চার দিনব্যাপী 'উত্তমকুমার ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল'। গোটা পশ্চিমবঙ্গবাসী মেতে উঠেছে মহানায়কের স্মৃতিচারণে।