হুগলি, নিউজ ডেস্ক: ২০২০ সালের একটি পুরোনো হিংসাত্মক ঘটনার প্রেক্ষিতে তৃণমূলের শীর্ষ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নতুন করে আইনি লড়াই শুরু করলেন বিজেপি নেতা কবীর শংকর বোস। বৃহস্পতিবার শ্রীরামপুর থানায় গিয়ে সাংসদ সহ শাসকদলের একাধিক শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। অভিযোগ জমা পড়তেই তৎপর হয়ে উঠেছে স্থানীয় প্রশাসন। ইতিমধ্যেই আকাশ পাত্র নামে এক ঘাসফুল কর্মীকে গ্রেপ্তার করে শ্রীরামপুর মহকুমা আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
অভিযোগপত্রে কবীর শংকর বোস উল্লেখ করেছেন, আজ থেকে প্রায় চার বছর আগে অর্থাৎ ২০২০ সালের ডিসেম্বরে শ্রীরামপুরে তাঁর বাসভবন লক্ষ্য করে সংগঠিত আক্রমণ চালানো হয়েছিল। প্রায় দু’শো তৃণমূল কর্মী তাঁর বাড়ি ঘিরে ফেলে বিক্ষোভ দেখায় এবং তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুর করে।
সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পেরিয়ে প্রায় রাত দুটো পর্যন্ত সেই তাণ্ডব চলেছিল বলে তাঁর দাবি। বিজেপি নেতার অভিযোগ, সে সময় স্থানীয় প্রশাসন হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে উল্টে তাঁর বিরুদ্ধেই মিথ্যা মামলা সাজিয়েছিল পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে সিবিআই এই ঘটনার তদন্তভার হাতে নেয় এবং দীর্ঘ তদন্তের পর কবীরবাবুকে যাবতীয় অভিযোগ থেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষণা করে দায়মুক্ত করে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
আইনি জটিলতা ও দীর্ঘ লড়াইয়ের পর এবার সেই পুরনো ঘটনার সুবিচার পেতে সরাসরি শ্রীরামপুর থানায় নালিশ জানালেন এই বিজেপি নেতা। তাঁর দায়ের করা অভিযোগপত্রে শ্রীরামপুরের সাংসদের পাশাপাশি নাম রয়েছে হুগলি জেলা তৃণমূলের সাংগঠনিক সভাপতি তথা কাউন্সিলর ঋতব্রত ওরফে পাপ্পু সিং, রিষড়া পুরসভার চেয়ারম্যান বিজয় সাগর মিশ্র এবং ভাইস চেয়ারম্যান জাহিদ হাসান খানের মতো একাধিক প্রভাবশালী নেতার।
রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি এই টানাপোড়েনের পেছনে ব্যক্তিগত সম্পর্কের সমীকরণও রয়েছে। সম্পর্কে কবীর শংকর বোস শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদের প্রাক্তন জামাতা। অতীতে বিজেপির টিকিটে শ্রীরামপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে দু’বার সাংসদ কল্যাণের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেছিলেন তিনি। তবে পুরনো সেই মামলার হাত ধরে এবার সরাসরি এফআইআরে সাংসদের নাম জড়িয়ে পড়ায় হুগলি জেলার রাজনৈতিক পারদ নতুন করে চড়তে শুরু করেছে।