মালদা, নিউজ ডেস্ক - টানা বর্ষণে ফলে একাধিক নদীতে জলস্তর বাড়তে শুরু করেছে। বিভিন্ন জায়গাতেই সতর্কতা জারি করা হচ্ছে। বিশেষ করে নদী নিকটবর্তী এলাকা গুলির মানুষদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হচ্ছে। গঙ্গার প্রবল স্রোতের সামনে টিকতে পারল না মালদার ভূতনির পুরোনো বাঁধ। বৃহস্পতিবার ভোরে কালুটোন টোলার কাছে প্রায় ৫০০ মিটার বাঁধ মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে যায় জলের তোড়ে। আর বাঁধ ভাঙতেই নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে ভূতনির বিস্তীর্ণ এলাকায়।
বাঁধের ভাঙ্গনের কারণেই আশেপাশে বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হতে শুরু করেছে। জলবন্দি হয়ে পড়েছে বহু মানুষ। গঙ্গার জলস্তর এবং প্রবল স্রোতের চাপ ক্রমশ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নদী নিকেতবর্তী এলাকাগুলির মানুষ এলাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছে। ঘরবাড়ি, চাষের জমি এবং জনবসতিতে জল ঢুকে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
বাঁধ ভাঙার খবর পৌঁছতেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। সমস্ত এলাকায় চলছে নজরদারি। দুর্গতদের পাশে থাকার জন্য সেই সমস্ত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর ব্যবস্থা শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। যেখানে জলের পরিমাণ বেশি রয়েছে তাদেরকে সেই এলাকা থেকে সরিয়ে আনার প্রচেষ্টা চলছে। তবে গঙ্গার ক্রমশ বাড়তে থাকা জল এবং প্রবল স্রোত এখন সবচেয়ে বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিস্থিতি যেভাবে ধীরে ধীরে ভয়াবহ হয়ে উঠছে তাতে জলের পরিমাণ বাড়লে প্রায় ২ লক্ষ মানুষ জলবন্দি হয়ে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সিপিআইএমের মালদা জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য দেবজ্যোতি সিনহা। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে আবারও বন্যার কবলে পড়বে ভূতনি। এমনটাই আশা করছেন তিনি।
ক্রমাগতই বাড়ছে জলস্থর। তাতেই ফুলে ফেঁপে উঠছে গঙ্গা। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে বাঁধ ভেঙে যাওয়া আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামীদিনে প্রশাসন এর জন্য কি কি ব্যবস্থা গ্রহণ করে তার সেদিকেই তাকিয়ে আপামর এলাকাবাসী।