দক্ষিণ দিনাজপুর, নিউজ ডেস্ক: প্রশাসনিক কাজের ঠাসা সূচির পাশাপাশি ব্যক্তিগত আতিথেয়তার উষ্ণতায় ভরপুর এক সফরের সাক্ষী থাকল বালুরঘাট। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা সফরে এলেন শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি পর্যালোচনা বৈঠক ও একাধিক কর্মসূচির মাঝে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের বাসভবনে তাঁর মধ্যাহ্নভোজের আয়োজনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তৈরি হয়েছে তুমুল কৌতূহল।
বুধবার সকালে বালুরঘাট বিমানবন্দরে অবতরণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে সরাসরি জেলা পুলিশ সুপারের দপ্তরে পৌঁছে বিগত তিন মাসে বাজেয়াপ্ত হওয়া মাদকদ্রব্যের ওপর রোলার চালিয়ে তা বিনষ্ট করার কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। এরপর ‘বালুছায়া’ প্রেক্ষাগৃহে জেলার বিভিন্ন অনুমোদিত ও প্রস্তাবিত উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিয়ে একটি দীর্ঘ রিভিউ বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে ১৬ জন প্রতিনিধির সঙ্গে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো সংক্রান্ত বিশেষ আলোচনাতেও অংশ নেন তিনি।
তবে সমস্ত ব্যস্ততার মাঝে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে বালুছায়া থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে সুকান্ত মজুমদারের বাড়ি। দলীয় সম্পর্কের ঊর্ধ্বে উঠে এই সফরকে নিতান্তই পারিবারিক আত্মীয়তার সমীকরণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী।
অতিথিদের আপ্যায়নে কোনো ত্রুটি রাখেননি সাংসদ-পত্নী কোয়েল চৌধুরী। মুখ্যমন্ত্রীর পছন্দের কথা মাথায় রেখে নিজের হাতেই রন্ধনশালার তদারকি ও পদ পরিবেশনের গুরুদায়িত্ব সামলান তিনি। এই মধ্যাহ্নভোজে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় ও নিশীথ প্রামাণিক।
মাছে-ভাতে বাঙালির চিরন্তন রসনাকে প্রাধান্য দিয়ে সাজানো হয়েছিল রাজকীয় আহারের থালি। পাতে ঠাঁই পায় গরম ভাত, পাটশাক ভাজা, ডাল ও পোস্ত। তবে মেনুর মূল চমক ছিল মিষ্টি জলের স্থানীয় বাটা জাতীয় সুস্বাদু মাছ ‘রাইখোর’ ভাজা এবং ময়া মাছের চচ্চড়ি। সেই সঙ্গে পরিবেশন করা হয় ইলিশ, কাতলা, দেশি মুরগির পাতলা ঝোল ও খাসির মাংস। শেষপাতে চাটনি ও রসগোল্লার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর মিষ্টিমুখের জন্য রাখা হয়েছিল নয়াবাজারের ঐতিহ্যবাহী দই।




