কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের পর তড়িঘড়ি দেহ সৎকার মামলায় এবার গ্রেফতার আরও এক প্রভাবশালী।
একাধিক রাজ্যে পুলিশের দীর্ঘ তল্লাশির পর অবশেষে কর্নাটকের বেঙ্গালুরু থেকে জালে উঠলেন পানিহাটি পুরসভার প্রাক্তন পুরপ্রধান সোমনাথ দে। তাঁকে বেঙ্গালুরুর সিটি সিভিল আদালতে পেশ করে ট্রানজিট রিমান্ডে বাংলায় ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজ্য পুলিশ।
তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, ঘটনার পর থেকেই পুলিশের রাডারে ছিলেন সোমনাথ দে। ওড়িশা ও হায়দরাবাদের বিভিন্ন গোপন ডেরায় তল্লাশি চালিয়েও প্রথমদিকে তাঁর হদিস মেলেনি। শেষমেশ মোবাইল ট্র্যাক ও গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বেঙ্গালুরুতে অভিযান চালিয়ে তৃণমূলের এই প্রাক্তন পুরপ্রধানকে বাগে পায় পুলিশ।
নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ ছিল, তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুর পর আরজি কর হাসপাতালে ডেডবডির ডিসচার্জ সার্টিফিকেটে একপ্রকার জোর খাটিয়ে তাঁদের সই করিয়ে নিয়েছিলেন এই সোমনাথই। সেই প্রেক্ষিতে দায়ের হওয়া নতুন এফআইআরের সূত্র ধরেই এই পদক্ষেপ।
দেহ সৎকারের ঘটনায় এই নিয়ে দ্বিতীয় কোনও হেভিওয়েট নেতা পুলিশের হাতে ধরা পড়লেন। এর আগে এই একই মামলায় পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষকে ওড়িশার বালেশ্বর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
নিহত চিকিৎসকের পরিবারের অভিযোগ ছিল, হাসপাতালের মর্গ থেকে শুরু করে পানিহাটি শ্মশান পর্যন্ত গোটা প্রক্রিয়াতেই নির্মল ঘোষের অতিসক্রিয়তা ছিল চোখে পড়ার মতো এবং তিনিই মূল উদ্যোগ নিয়ে দ্রুত দাহ পর্ব সেরে ফেলেন। নিহতের মা শুরু থেকেই নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে এবং প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তদন্ত ও শাস্তির দাবিতে সরব ছিলেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণ আরও তীব্র হয়েছে। বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ সরাসরি নির্মল ঘোষ ও সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে আঙুল তুলেছেন এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির সওয়াল করেছেন। অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী শ্মশানের নথিপত্র ও প্রক্রিয়াগত গরমিলের মারাত্মক অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, শ্মশানে অন্য দেহের সৎকার ৩ নম্বরে থাকলেও প্রভাব খাটিয়ে নিহতের দেহ ১ নম্বরে তুলে তড়িঘড়ি দাহ করা হয়।
এমনকি পরিবারের যথাযথ স্বাক্ষর কিংবা সৎকারের রসিদ ছাড়াই একপ্রকার জোর করে পুরো বিষয়টি সম্পন্ন করেছিলেন নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে ও সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়। এই নিয়ে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের কাছে কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি জানানোর পাশাপাশি 'অভয়া'র সুবিচার ছিনিয়ে না আনা পর্যন্ত লড়াই জারি রাখার ডাক দিয়েছেন তিনি।