স্পোর্টস ডেস্ক: ক্রিকেটের পরিচয়টাই যেন তাঁর কাছে সবচেয়ে বড়। সেই পরিচয় নিয়েই এবার বিশ্বমঞ্চে পা রাখার স্বপ্ন অনয়া বাঙ্গারের। প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার সঞ্জয় বাঙ্গারের সন্তান অনয়া জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের মার্চ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় এলিট পর্যায়ের মহিলা ক্রিকেটে খেলার জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন তিনি। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ‘ইনক্লুশন অব ট্রান্সজেন্ডার অ্যান্ড জেন্ডার ডাইভার্স প্লেয়ার্স ইন এলিট ক্রিকেট’ নীতির আওতায় তাঁর নথিপত্র পর্যালোচনা করা হয়েছে। আপাতত ক্লাব ক্রিকেট দিয়ে যাত্রা শুরু করতে চান ২৩ বছরের অনয়া। যদিও লক্ষ্যটা আরও বড়। এক দিন ভারতের হয়ে মহিলা ক্রিকেট বিশ্বকাপ জেতা, অলিম্পিক্সে পদক পাওয়া।
নিজের লড়াইয়ের কথা বলতে গিয়ে অনয়া জানিয়েছেন, পথটা মোটেই সহজ ছিল না। ২০২৪ সালে হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি শুরু করেন তিনি। পরিবার পাশে থাকলেও সবচেয়ে বড় লড়াইটা তাঁকেই লড়তে হয়েছে বলে জানিয়েছেন অনয়া। তাঁর কথায়, ‘‘আমাকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছি আমি নিজেই।’’ হরমোন থেরাপির ফলে শরীরে একাধিক পরিবর্তন এসেছে। কমেছে পেশিশক্তি, স্ট্যামিনা এবং হাড়ের খনিজ ঘনত্ব। অস্ত্রোপচারও করিয়েছেন তিনি। বর্তমানে তাঁর টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ০.৬ nmol/L, যা তিন বছর ধরে বজায় রয়েছে। ইংল্যান্ডে থাকাকালীন ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণাতেও অংশ নিয়েছিলেন অনয়া। সেখানে তাঁর ফুসফুসের সক্ষমতা, হিমোগ্লোবিন, শক্তি-উৎপাদন-সহ বিভিন্ন শারীরিক সূচক পরীক্ষা করা হয়।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় ফেরার পর আবার তাঁর টেস্টোস্টেরনের মাত্রা পরীক্ষা করা হবে। সেই ফল এবং নীতিমালা অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে মহিলাদের বিগ ব্যাশ লিগে খেলার সুযোগ পাওয়ার আশাও রয়েছে তাঁর। তবে তার আগে ক্লাব ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করতে চান অনয়া। একই সঙ্গে ভারতের ক্রিকেট প্রশাসনের নীতির দিকেও তাকিয়ে তিনি। তাঁর বক্তব্য, ভারতে এই বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট নিয়মকানুন নেই। তাই পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার চেয়ে স্পষ্ট নীতি তৈরি করাটাই জরুরি।
ক্রিকেটই যে শেষ পর্যন্ত তাঁর পরিচয় হয়ে উঠুক, সেটাই চান অনয়া। অতীতে সরফরাজ খান ও মুশির খানের সঙ্গে ক্রিকেট খেলেছেন তিনি। এক সময় ভক্ত ছিলেন বিরাট কোহলির। এখন পছন্দ করেন অভিষেক শর্মাকে। মহিলা ক্রিকেটারদের মধ্যে স্মৃতি মান্ধানাই তাঁর অন্যতম প্রিয়। তবে ব্যক্তিগত পছন্দের তালিকার থেকেও বড় তাঁর স্বপ্ন। শুধু ক্রিকেটের মাঠে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা নয়। আগামী দিনে ভারতকে ফের একবার বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন করার এবং অলিম্পিক্সে পদক এনে দেওয়ার স্বপ্নও দেখছেন সঞ্জয় বাঙ্গারের সন্তান। সেই লক্ষ্যে প্রথম ধাপ অস্ট্রেলিয়ার ক্লাব ক্রিকেট। তার পর মহিলাদের বিগ ব্যাশ লিগ, আর চোখ থাকবে আরও দূরের লক্ষ্যে।