নিউজ ডেস্ক: মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষে তাঁকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার সমাজ মাধ্যমে কিংবদন্তি অভিনেতাকে স্মরণ করে তাঁর বিরল অভিনয়-প্রতিভার কার্যত স্তুতি করেন প্রধানমন্ত্রী। মোদীর কথায়, মহানায়কের কালজয়ী অভিনয় প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এখনও দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে চলেছে। শুধু বাংলা চলচ্চিত্র নয়। ভারতীয় সংস্কৃতির পরিসরেও উত্তম কুমারের অবদানকে বিশেষ মর্যাদার সঙ্গে দেখছেন প্রধানমন্ত্রী। জন্মশতবর্ষে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে উত্তম-স্মৃতিকে যেন আরও এক বার জনমানসে ফিরিয়ে আনলেন মোদী।
১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর উত্তম কুমারের জন্ম কলকাতায়। কয়েক দশকের অভিনয় জীবনে বাংলা ছবির জগতে তিনি এমন এক স্বতন্ত্র জায়গা তৈরি করেছিলেন, যা আজও অমলিন। সুচিত্রা সেনের সঙ্গে তাঁর জুটি কার্যত কিংবদন্তিরই মর্যাদা পেয়েছে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে। ‘সপ্তপদী’, ‘হারানো সুর’, ‘সাগরিকা’, 'সন্ন্যাসী রাজা', ‘নায়ক’, ‘চিড়িয়াখানা’, ‘অগ্নীশ্বর’ ইত্যাদি একাধিক ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকের মনে স্থায়ী ছাপ ফেলেছে। রোম্যান্টিক নায়ক থেকে জটিল চরিত্র, বিভিন্ন ভূমিকায় নিজেকে বার বার ভেঙে নতুন করে গড়েছেন উত্তম। অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনাতেও হাত পাকিয়েছিলেন তিনি। ফলে তাঁর জন্মশতবর্ষ কেবল একজন তারকার স্মরণ নয়। বাংলা সিনেমার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের উদ্যাপনও।
এ দিন সমাজ মাধ্যমে নিজের পোস্টে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, "মহানায়ক উত্তম কুমার... এক কিংবদন্তি যাঁর কালজয়ী পরিবেশনা প্রজন্মান্তরের মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে চলেছে। তাঁর জন্মশতবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি। গত রবিবার #MannKiBaat অনুষ্ঠানে আমি তাঁর সম্পর্কে যা বলেছিলাম, তাও শেয়ার করছি।" একই সঙ্গে গত রবিবার আকাশবাণীতে সম্প্রচারিত তাঁর ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানের একটি অংশও ভাগ করে নেন তিনি। সেখানে উত্তম কুমারের অভিনয়জীবন এবং তাঁর দীর্ঘস্থায়ী জনপ্রিয়তার প্রসঙ্গ উঠে এসেছিল। প্রধানমন্ত্রীর এই স্মরণে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এলেন বাংলা চলচ্চিত্রের সেই নায়ক, যাঁর পর্দার উপস্থিতি একসময় বাঙালির আবেগেরই অন্য নাম হয়ে উঠেছিল।
উত্তম কুমার চলে গিয়েছেন বহু বছর আগে। কিন্তু তাঁর অভিনীত চরিত্র, সংলাপ, গান এবং পর্দার সেই স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব এখনও বাঙালির সাংস্কৃতিক স্মৃতির অঙ্গ। সময় বদলেছে। দর্শকের রুচি বদলেছে। সিনেমার ভাষাও বদলেছে। তবু ‘উত্তম’ নামটির সঙ্গে বাঙালির আবেগে ভাটা পড়েনি। জন্মশতবর্ষে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধার্ঘ্য সেই সর্বভারতীয় স্বীকৃতির কথাই যেন আরও এক বার মনে করিয়ে দিল। রাজনীতি বা সময়ের সীমারেখা পেরিয়ে শিল্পীর কৃতিত্ব কী ভাবে মানুষের মনে জায়গা করে নেয়, উত্তম কুমারের দীর্ঘস্থায়ী জনপ্রিয়তা তারই উদাহরণ। তাঁর জন্মশতবর্ষে মোদীর বার্তায় তাই ফের উচ্চারিত হল সেই চিরপরিচিত নাম। মহানায়ক উত্তম কুমার।