স্পোর্টস ডেস্ক: শ্রীলঙ্কার বদলে আগামী ২০২৭ সালের মহিলাদের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আসর বসতে চলেছে ভারতে। বুধবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের বোর্ডের বৈঠকে নতুন আয়োজক হিসেবে চূড়ান্ত করা হল ভারতের নাম। ইতিহাসে এই প্রথমবার আয়োজিত হতে চলেছে মহিলাদের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি।
আগামী ১৪ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে হবে এই ৬ দলীয় প্রতিযোগিতাটি। ম্যাচগুলির জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে মুম্বইয়ের ক্রিকেট ক্লাব অফ ইন্ডিয়া এবং ভদোদরার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামকে। অন্যদিকে দ্বীপরাষ্ট্রে ক্রিকেট প্রশাসন নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতার জেরেই আয়োজনের সুযোগ হাতছাড়া করল তারা।
আইসিসি জানিয়েছে, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটকে গত জুলাইয়ের বার্ষিক সম্মেলনে যে সংস্কারমূলক পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছিল, সেগুলি এখনও সম্পূর্ণ করতে হবে। সেই কারণেই বিকল্প আয়োজক খোঁজার সিদ্ধান্ত নেয় আইসিসি। বাংলাদেশ, ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকা, এই তিন দেশকে নির্দিষ্ট আয়োজক-মানদণ্ডের ভিত্তিতে যাচাই করা হয়।
যেহেতু পাকিস্তান এই প্রতিযোগিতা খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। তাই শেষ পর্যন্ত ভারতের পরিকাঠামো এবং আয়োজনের সক্ষমতাকেই সবচেয়ে উপযুক্ত বলে মনে করা হয়েছে। আইসিসি বোর্ড সেই সুপারিশে সিলমোহর দেওয়ার পরই ভারতের মাটিতে প্রথম মহিলা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আয়োজনের পথ পরিষ্কার হয়ে যায়।
ছয় দলের এই প্রতিযোগিতায় আয়োজক ভারত ছাড়াও খেলবে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং শ্রীলঙ্কা। উল্লেখ্য, গত ৬ জুলাইয়ের আইসিসি মহিলা টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতেই দলগুলি যোগ্যতা অর্জন করেছে। পাকিস্তান এই সময় প্রথম ছয়ে ছিল না।
অন্যদিকে পুরুষদের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মতো এখানে নকআউট পর্বে সরাসরি যাওয়ার ব্যবস্থা থাকছে না। প্রথমে ছয়টি দল একে অপরের বিরুদ্ধে রাউন্ড-রবিন লিগে খেলবে। লিগ শেষে পয়েন্ট তালিকার প্রথম দুই দল মুখোমুখি হবে ফাইনালে। ২৮ ফেব্রুয়ারি হবে সেই বহুল প্রতীক্ষিত খেতাবি লড়াই।
ভারতের জন্য এই আয়োজন নিঃসন্দেহে বাড়তি তাৎপর্যের। গত বছর দেশের মাটিতেই মহিলা ওয়ানডে বিশ্বকাপ হয়েছিল এবং প্রথমবারের মতো খেতাব জেতে হরমনপ্রীত কৌরের উইমেন ইন ব্লু। সেই সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের একটি বড় আইসিসি প্রতিযোগিতার দায়িত্ব চাপল কাঁধে।
আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহের কথায়, মহিলা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি মহিলা ক্রিকেটে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। তাঁর মতে, প্রতি বছর একটি করে বড় আইসিসি মহিলা প্রতিযোগিতা হলে বিশ্বজুড়ে মহিলা ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা এবং প্রতিযোগিতার ধারাবাহিকতা আরও বাড়বে।