স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপের এখনও এক বছরেরও বেশি সময় বাকি। কিন্তু তার প্রস্তুতি যে এখন থেকেই শুরু করে দিতে চাইছে ভারতীয় দল, তা স্পষ্ট হচ্ছে ক্রমেই। আগামী বছর বিশ্বকাপের আসর মূলতঃ দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বসতে চলেছে। আর সেই কারণেই বিশ্বকাপের আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে তাদের দেশেই একটি ওয়ানডে সিরিজ খেলার প্রস্তাব দিয়েছে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। সূত্রের খবর, সেই প্রস্তাবকে সামনে রেখেই ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে বিসিসিআই। ৪ থেকে ৬ ম্যাচের একটি সিরিজ আয়োজনের কথা ভাবা হচ্ছে।
বিশ্বকাপের আয়োজক দেশের পরিবেশ, উইকেট এবং পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই এই সিরিজের অন্যতম লক্ষ্য। ভারতীয় দলের নেতৃত্বে রয়েছেন শুভমান গিল, হেড কোচ গৌতম গম্ভীর। তাঁদের তরফেই নাকি বোর্ডের কাছে এই সিরিজের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিশ্বকাপের আগে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে একাধিক ওয়ানডে ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলে দলের প্রস্তুতি আরও মজবুত হবে বলেই মনে করছে টিম ম্যানেজমেন্ট। বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে পা রাখার আগে বিদেশের মাটিতে ম্যাচের চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে শুধু ম্যাচ প্রস্তুতিই নয়। ভারতীয় শিবিরের নজরে রয়েছে ক্রিকেটারদের ফিটনেসও। রিপোর্ট অনুযায়ী, দলের স্ট্রেংথ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ অ্যাড্রিয়ান লে রু ইতিমধ্যেই ক্রিকেটারদের জন্য একটি বিশেষ ফিটনেস পরিকল্পনা তৈরি করেছেন। বিশ্বকাপের সময় প্রত্যেক ক্রিকেটারকে যাতে সর্বোচ্চ শারীরিক সক্ষমতায় পাওয়া যায়, সেটাই লক্ষ্য। বৃহস্পতিবার বিসিসিআইয়ের রিভিউ বৈঠকেও গিলকে ডাকা হয়েছিল। সেখানে দলের ক্রিকেটারদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ফিটনেস পরিকল্পনা নিয়ে মতামত নেওয়া হয়েছে বলে খবর। ক্রিকেটারদের ফিটনেস নিয়ে বোর্ড, কোচ এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে যাতে কোনও যোগাযোগের ঘাটতি না থাকে, সেদিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্বকাপের আগে তাই একদিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় ওয়ান ডে সিরিজ, অন্য দিকে দীর্ঘমেয়াদি ফিটনেস পরিকল্পনা। দুই দিকেই একসঙ্গে এগোতে চাইছে ভারত। বিশেষ নজরে রাখা হয়েছে জশপ্রীত বুমরাহ এবং হার্দিক পাণ্ডিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারদের ফিটনেস। আইপিএল ২০২৭-এর পর ভারতের সফরসূচি এখনও পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়নি। ফলে ভবিষ্যৎ সফরসূচিতে জায়গা বার করে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে এই সিরিজ আয়োজনের সম্ভাবনাও রয়েছে। বিশ্বকাপের মঞ্চে নামার আগেই আয়োজক দেশের মাটিতে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার এই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হলে, তা গিল-গম্ভীরদের প্রস্তুতিতে বড় ভূমিকা নিতে পারে।