কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ সত্ত্বেও শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার নেপথ্যে রয়েছে বিজেপি-তৃণমূলের গোপন আঁতাত। কালীঘাট শিবিরের বিরুদ্ধে এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একদা ঘনিষ্ঠ, বর্তমানে ঋতব্রত শিবিরে যোগ দেওয়া এই বিধায়কের স্পষ্ট অভিযোগ, রাজ্যে বিরোধিতার আবহে আসলে তলে তলে গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে গভীর বোঝাপড়া বজায় রাখছে কালীঘাট।
মদন মিত্রের দাবি, বাংলায় বিজেপির সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার ধারাপাত তৈরি করেছিলেন স্বয়ং তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁর বক্তব্য, প্রকাশ্যে বিরোধিতা আর গোপনে বন্ধুত্বের যে নাটক চলছে, তা দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণের নজর এড়িয়ে চলেছে। দেশে বিজেপির সবচেয়ে বড় নির্বাচনী হাতিয়ার হিসেবে তৃণমূলনেত্রীকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্ষমতায় টিকে থাকার পেছনে কেন্দ্রীয় শাসকদলের পূর্ণ মদত রয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক বিদেশযাত্রা প্রসঙ্গেও সমঝোতার ইঙ্গিত টেনে তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতার এই দীর্ঘস্থায়ী ভরকেন্দ্র না থাকলে বাংলায় বিজেপির বাড়বাড়ন্ত আরও কয়েক দশক পিছিয়ে যেত।
এদিকে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কেন্দ্র করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মদন মিত্রের সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। ঋতব্রত শিবিরের নেতাদের ঘরে ফেরার বার্তা দিয়ে অভিষেক শর্ত দিয়েছিলেন, তাঁরা ফিরে এলে এক ঘণ্টার মধ্যে পদ ছাড়বেন তিনি। এর জবাবে ২১ জুলাইয়ের বিকল্প সমাবেশ থেকে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে তীব্র আক্রমণ শানান কামারহাটির বিধায়ক। কোনো হুমকি বা চমকানি তাঁদের রুখতে পারবে না স্পষ্ট জানিয়ে উল্টে অভিষেককে দু’ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেন তিনি।
মদন মিত্রের দাবি ছিল, তৃণমূলের সাংগঠনিক পতনের দায় স্বীকার করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রকাশ্যে সভায় এসে অনুতাপ প্রকাশ ও ক্ষমা চাইতে হবে। শাসকদলের দুই শিবিরের এই সম্মুখ সমরে কার সঙ্গে বিজেপির আসল সমীকরণ, সেই প্রশ্নে এখন তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।