নিউজ ডেস্কঃ সময় শেষ হওয়ার মুখে ছিল। হাতে ছিল গুরুত্বপূর্ণ জবাব দেওয়ার দায়িত্ব। কয়েক সপ্তাহ ধরে যে রাজনৈতিক ও আইনে লড়াই নিয়ে দিল্লি থেকে কলকাতা দুই জায়গাতেই নজর ছিল, তাতে এবার এল নতুন মোড়। ফের চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে বাংলার ২০ জন লোকসভার সাংসদকে ঘিরে চলা রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক টানাপোড়েন।
তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে নবগঠিত ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা NCPI-এ যোগদান করা ২০ জন সাংসদের সদস্যপদ নিয়ে এই বিতর্ক। তাঁদের অযোগ্য ঘোষণা করার দাবিতে আবেদনের পর লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা নোটিশ পাঠিয়েছেন। সেই নোটিসের জবাব দেওয়ার জন্য আরও তিন সপ্তাহ সময় চেয়েছিলেন সাংসদরা।
সূত্রের খবর, স্পিকার তাঁদের সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন। এনসিপিআইএর দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, বিষয়টি নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এবং সমস্ত আইনের দিক খতিয়ে দেখে নোটিসের জবাব দেওয়া হবে। অর্থাৎ এখনই কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বরং আইনের প্রস্তুতিতে জোর দিচ্ছে দল।
সূত্রের খবর, গত ২৬ আগস্ট লোকসভা সচিবালয়ের তরফে কুড়িজন সাংসদকে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই নোটিসের সঙ্গে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর করা আবেদনের প্রতিলিপিও দেওয়া হয়েছিল।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর আগে লোকসভার স্পিকারের কাছে পৃথকভাবে আবেদন করে দলত্যাগী সাংসদদের অযোগ্য ঘোষণা করার দাবি জানান। পরে দ্রুত এই বিষয়ে সিদ্ধান্তের দাবিতে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দারস্ত হন। এরপর গত ২৫ আগস্ট মামলার শুনানিতে ওই কুড়িজন সাংসদকে নোটিশ দেওয়ার পাশাপাশি বিষয়টি দ্রুত বিবেচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
এর আগে ১৮ জুন ওম বিড়লার সঙ্গে বৈঠকের পর দলত্যাগী সাংসদরা এনসিপিআইএর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় অযোগ্যতার ঝুঁকি এড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে বিতর্ক শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক মহলে।
তবে, সংবিধানের দশম তফসিলের 'মার্জার' সংক্রান্ত বিধান নিয়ে রয়েছে আইনি বিতর্ক। আপাতত তিন সপ্তাহ অতিরিক্ত সময় মিলেছে। তবে, শেষপর্যন্ত ২০ জন সংসদের সদস্যপদ থাকবে নাকি তাঁদের অযোগ্য ঘোষণা করা হবে, তা নির্ভর করছে আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার উপর।