কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: আর পাঁচটা দিনের মতোই শুরু হয়েছিল বৃহস্পতিবারের সকালটা। কলকাতার ব্যস্ত ক্যামাক স্ট্রিট। অভিজাত এই এলাকায় একটি অফিস ঘিরে তৈরি হয় চাঞ্চল্য। অভিযোগ ওঠে, ভোরের সূর্য ফোটার প্রাক মুহুর্তে সশস্ত্র হামলাকারীরা তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালায়। আর এই অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি হয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে।
এই ঘটনার বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সমাজ মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে নিজের ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। তিনি অভিযোগ করেছেন, বৃহস্পতিবার ভোর চারটে নাগাদ কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে তাঁর দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালায় একদল সশস্ত্র ব্যক্তি। দলীয় কার্যালয়ের ভিতরে থাকা কর্মীদের উপর হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। তাদেরকে মারধর করে ও তাদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
শুধু তাই নয় অফিসের ভিতরে থাকা আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম পর্যন্ত ভেঙে দেয় তারা। শুধু হামলার অভিযোগেই থেমে থাকেননি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কাঠগোড়ায় তুলেছেন কলকাতা পুলিশের ভূমিকাকেও। তাঁর অভিযোগ, ঘটনার পর বার বার যোগাযোগ করা হলেও প্রায় দু-ঘণ্টা পুলিশ প্রশাসনের তরফে কোনও সাড়া মেলেনি।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট দাবি করেছেন, এটি পরিকল্পনা করে করা হয়েছে। তাই হামলাকারীদের শুধু গ্রেফতার করলেই হবে না। এই ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে তাও খুঁজে বের করতে হবে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখারও দাবি তোলেন তিনি।
অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অভিযোগের পাল্টা দাবি করেছেন বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। বিজেপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তিনি আরও দাবি করেন, বিজেপি যদি প্রতিহিংসার পথে চলত তাহলে ২০২১ সালের পরে তৃণমূল ক্ষমতায় ফিরতে পারত না। তাই যে অভিযোগ করা হচ্ছে তার সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। একই সঙ্গে ক্যামাক স্ট্রিটের ওই জায়গাটি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। শমীকের দাবি, সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও আনুষ্ঠানিক দলীয় কার্যালয় রয়েছে বলেই তাঁর জানা নেই।
মাত্র কয়েকদিন আগেই খবরের শিরোনামে এসেছে তৃণমূলের এই ক্যামাক স্ট্রিট অফিস। ভবনে থাকা তৃণমূলের সাইনবোর্ড সরানোকে কেন্দ্র করে কলকাতা পুরসভা ও পুলিশের সঙ্গে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল কিছুদিন আগেই। সেই ঘটনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন-সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। এই ঘটনা রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও ক্যামাক স্ট্রিটের তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় ঘিরে বিতর্ক। রাজ্য রাজনীতিতে ক্রমাগতই পারদ চড়ছে। আগামীদিনে এই ঘটনার মোড় কোন দিকে যায় সেটাই এখন দেখার।