নেপাল, নিউজ ডেস্ক - পাহাড়ের সৌন্দর্য চিরদিনেরই পর্যটকদের কাছে খুবই আকর্ষণীয়। এই সৌন্দর্যের টানে প্রতিবছর বহু মানুষ ছুটে যায় পাহাড়ের কোলে। কয়েকমুহূর্ত শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশ উপভোগ করতে পাহাড়ের বিকল্প হয় না। কখনও পাহাড়ের নীরবতা, কখনও অচেনা পথের টান, ভ্রমণের আনন্দ নিয়েই শুরু হয়েছিল এমনই এক যাত্রা। কিন্তু সেই আনন্দের সফরই এখন একাধিক পরিবারের কাছে পরিণত হয়েছে ভয়াবহ উদ্বেগ আর অপেক্ষার গল্পে। ফোনের ওপারে পরিচিত কন্ঠস্বর শোনার আশায় বার বার মোবাইলের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন পরিজনেরা। দিনের পর দিন কেটে গেলও প্রিয়জনের কোনও খোঁজ না মেলায় বাড়ছে উৎকণ্ঠা। আকস্মিক ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর নেপালের মাটিতে আটকে রয়েছে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন, যার উত্তর এখনও মিলেনি।
সূত্রে খবর, নেপাল সফরে গিয়ে এখনও বেশ কিছু ভারতীয় পর্যটকের সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নেপালে নিয়ে গিয়েছে 'চলো যাই' ট্রাভেল এজেন্সি। নিখোঁজ পর্যটকদের পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে উদ্ধার হওয়া মৃতদেহগুলির মধ্যে তাঁদের পরিজন রয়েছে কি না, তা সনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন। পরিবারের সদস্যদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে উদ্ধার হওয়া মৃতদেহের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে, গোটা পরিস্থিতি নিয়ে ভারত সরকারের তরফেও 'চলো যাই' ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। নিখোঁজ পর্যটকদের বিষয়ে পাওয়া তথ্য এবং তাঁদের সন্ধানকার্যে চলা তৎপরতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় করা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, 'চলো যাই' এজেন্সি বহু বছর ধরে নেপালের স্থানীয় একটি ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে সমন্বয় করে মানস-কৈলাস ট্যুর পরিচালনা করে আসছে। এই রুটে দীর্ঘদিন ধরে পর্যটকদের নিয়ে যাওয়া হলেও অতীতে কোনও বড় ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়নি বলে জানা গিয়েছে। ফলে, এবারের ঘটনায় ট্রাভেল সংস্থার কাছেও পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগের।
নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা এখনও নেপালেই রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে চলা তল্লাশি এবং উদ্ধার হওয়া দেহগুলির ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল, এই দুইদিকে তাকিয়ে রয়েছে পরিবারগুলি। তাঁদের প্রিয়জনদের ফেরার অপেক্ষার আশা যেন এখনও ক্ষীন ভাবে জ্বলছে। তবে, শেষপর্যন্ত কি উত্তর মিলবে, তা এখনও অজানা।i