কলকাতা,নিউজ ডেস্ক: বিগ বস-র ঘরের ক্যাপ্টেন তিনি। তবে পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে ট্রোলড হচ্ছেন অভিনেতা ভরত কল। কখনও চুরি আটকাতে গিয়ে নাস্তানাবুদ,বা অন্য প্রতিযোগীদের মনোমালিন্য সামলাতে গিয়ে লেজে গোবরে। ক্যাপ্টেন হওয়ার সুবাদে কেউ ভরতের পক্ষে।কেউ আবার বিপক্ষে! এরই মধ্যে নজর কেড়েছে ভরত-কন্যা।
রোজ তাঁর বাবাকে নিয়ে নেটদুনিয়ায় হওয়া নানা আলোচনায় মন খারাপ আরিয়া'র। এব্যাপারে ভরত-জায়া জয়শ্রী জানান প্রতিদিনের টেলিকাস্ট ছাড়াও স্কুলের পরে বিগ বস-র লাইভে একটু হলেও নজর রাখে আরিয়া। বাবা আছে যে! আর তাতেই মুড অফ হচ্ছে তার। জয়শ্রী বলেন ‘ওর মাঝেমধ্যেই মন খারাপ হচ্ছে। ভরত যাওয়ার সময়ে আরিয়া আমাদের সকলের ছবি দিয়ে দিয়েছিল। যাতে যখনই মন খারাপ হবে ও যেন আমাদের দেখতে পায়। ক্যাপ্টেনস রুমে বসে ভরত সে দিন রাতে সেই ছবিগুলো দেখছিল। আমি কিন্তু খেয়াল করিনি। আরিয়া ঠিক দেখে নিয়েছে। আমায় হঠাৎ ডেকে বলছে, ওই দেখো বাবা আমাদের ছবি দেখছে মা। তার মানে আমাদের জন্য মন খারাপ করছে বাবার। ওকে অনেক বোঝাতে একটু শান্ত হলো।’
মাঝরাতে হঠাৎ বাবার কথা মনে পড়লে জয়শ্রীকে আরিয়া বলে, 'বাবা তো না গেলেই পারত মা। তুমি কেন আটকালে না?' মেয়েকে অবোঝানোর চেষ্টা করেন জয়শ্রী। তিনি বলেন 'যারা ট্রোল করছে, খারাপ কথা বলছে, ৫৭ বছরের লোকটাকে সবসময় বলছে বুড়ো, তুমি কি তাদের চেনো? তারা কেউই তো তোমার কাছের বা পছন্দের লোক নয়। যারা করছে তাদের সঙ্গে তো তোমার কোনও সম্পর্কই নেই। তাই এদের নিয়ে ভেবো না। সবচেয়ে বড় কথা নেগেটিভ পাবলিসিটি মানুষকে অনেক দূর নিয়ে যায়। আর বাবা স্ট্রং বলে অনেকে হয়তো ভয় পাচ্ছে। তাই এ সব নিয়ে এত ভাবার একদম দরকার নেই।' তবে, মন খারাপ হলেও,বাবা খেলতে যাওয়ার আগে অ ভীষণই এক্সাইটেড ছিল ভরত কন্যা। বলেছিল 'বাবাকে জিততেই হবে। জয়ীর মুকুট নিয়ে আসবে আমার বাবা।'
এই মুহূর্তে ‘ক্যাপ্টেন’ স্বামীকে নিয়ে প্রচণ্ড খুশি, আশাবাদী স্ত্রী জয়শ্রী। এব্যাপারে তিনি বলেন ‘অন্য বিগ বস-র থেকে বাংলাও অন্যথা নয়। ক্যাপ্টেনকে ঘর থেকে বের করে দিতে পারা যাবে না, কেউ নমিনেট করতে পারবে না। ইচ্ছে না থাকলেও সকলকে তার কথা শুনে চলতে হবে। ফলে সমস্যা হবে এটা তো জানা কথাই।’
বিগ বস প্রতিযোগিতায় ক্ষেত্রে ভরত কলের একটা বিশেষ সমস্যা হতে পারে বলে। তা হল ভাষা সমস্যা। জয়শ্রী জানান ‘ভরতের ভাষাগত দিক থেকে একটা সমস্যা আছে। ও যেহেতু হিন্দিভাষী, বাংলা কথা কোনটার পরিবর্তে কোনটা বলতে হয়, ওর গুলিয়ে যায়। সেই ধরনের সমস্যা একটা হতে পারে। তবে জেতা, হারাটা বড় বিষয় নয়। আমি ভীষণ আশাবাদী একজন মানুষ। শুধু চাই গ্র্যান্ড ফিনালে পর্যন্ত ও পৌঁছে যাক। তার পরে ভাগ্যে যা আছে হবে।’
বোঝাই যাচ্ছে এই শো প্রতিযোগীদের পরিবারকেও উদ্বুদ্ধ করেছে। প্রভাব রাখছে তাঁদের অন্দরমহলেও!