কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: খেলার আগেই ক্যাপ্টেন হরমনপ্রীত জানিয়েছিলেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দ্বৈরথকে তেমন একটা গুরুত্বের চোখে দেখছে না তাঁর দল। শনিবার এশিয়া কাপের ম্যাচেও প্রতিফলন ঘটল সেই দাবির। দুবাইয়ের মাঠে শুরুতে ব্যাট করে পাকিস্তান শেষ ৫৫ রানেই। জবাবে ৮.৪ ওভারেই ৭ উইকেটের জয় ছিনিয়ে নিল উইমেন ইন ব্লু। যদিও এর পরেও ম্যাচ যে পুরোপুরি একপেশে হয়েছে তা বলার কিন্তু উপায় নেই। রান তাড়া করতে নেমে ২৯ রানেই ৩ উইকেট খুইয়ে কিছুটা চাপে পড়ে গিয়েছিল ভারত। মাত্র ৫৬ রানের সামান্য লক্ষ্যও যে এতটা কঠিন হয়ে উঠতে পারে, তা বোধহয় ভাবতেও পারেনি তারা।
শেষমেষ অধিনায়িকা হরমনপ্রীত কৌরের অভিজ্ঞতা এবং দীপ্তি শর্মার হিমশীতল মস্তিষ্কের কল্যাণে সামাল দেওয়া গেল পরিস্থিতি। ক্যাপ্টেন হিসাবে নিজের ১৫০ তম টি-২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচে জয়সূচক ছক্কা হাঁকিয়েই খেলা শেষ করেন হরমনপ্রীত। এর
আগে ভারতীয় স্পিনারদের ঘূর্ণিতে কার্যত তাসের ঘরের মতোই ভেঙে পড়েছিল পাকিস্তানের ইনিংস। মহিলাদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের সর্বনিম্ন স্কোর এ দিনই করলেন ফতিমা সানারা। শ্রী চরণী এবং প্রেমা রাওয়াত, দু’জনেই ৩টি করে উইকেট তুলে নিয়ে ভেঙে দেন পাক ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড। এ ছাড়া দীপ্তি শর্মার খাতায় ২ উইকেট। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, তিন বোলারের কেউই ১০ রানও খরচ করেননি।
পাকিস্তানের ব্যাটিং বিপর্যয়ের শুরুটা অবশ্য শেফালি ভার্মার হাত ধরে। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে মুনিবা আলিকে ফিরিয়ে দেন তিনি। তার পরেই ভারতীয় স্পিনারদের সামনে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। ৫৫ রানে প্রতিপক্ষকে গুটিয়ে দেওয়ার পরে ভারতের সামনে ছিল কার্যত ম্যাচ জেতার নিয়মরক্ষা। কিন্তু রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই শেফালী ভার্মা (১২), প্রতীকা রাওয়াল (৪) আর স্মৃতি মান্ধানার (৯) উইকেট হারানোয় আচমকাই কিছুটা চাপ তৈরি হয় ম্যাচে। সেই জায়গা থেকে দায়িত্ব নিয়ে দলকে জয়ের গণ্ডি পার করাল হরমনপ্রীত (১৮*) এবং দীপ্তির (১২*) জুটি।
এ দিকে এই জয়ের ফলে ভারতের দাপট আরও বাড়ল চলতি টুর্নামেন্টে। ৩ ম্যাচের সব কটিতেই জয়ের সুবাদে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘এ’-এর শীর্ষে থাকা নিশ্চিত করলেন হরমনপ্রীতরা। সেমিফাইনালের টিকিট অবশ্য আগেই পাকা হয়ে গিয়েছিল। অন্যদিকে এই লজ্জার হার সত্ত্বেও পাকিস্তানও উঠতে পারে সেমিফাইনালে। শেষ ম্যাচে হংকংকে হারালেই তা সম্ভব। তবে ব্যাট হাতে সামান্য টললেও বল হাতে ভারতীয় স্পিনাররা যে কতটা ভয়ঙ্কর, সেটাই যেন এ দিনের ম্যাচের একমাত্র বিজ্ঞাপন হয়ে রইল।