কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: শিক্ষক দিবসে প্রয়াত বাবাকে বিশেষভাবে সম্মান জানালেন শচীন তেন্ডুলকর। তাঁকে বলা হয়, ক্রিকেটের ঈশ্বর। আবার ক্রিকেটের বাইরেও সমাজসেবামূলক কাজের জন্য পরিচিত তিনি। সেই কাজেরই অংশ হিসেবে এ বার মাস্টার ব্লাস্টার ঘোষণা করলেন ‘প্রফেসর রমেশ তেন্ডুলকর মেমোরিয়াল ফেলোশিপ’।
এই উদ্যোগের লক্ষ্য, তরুণ চিকিৎসকদের ঠোঁট ও মুখমণ্ডলের জন্মগত ত্রুটি সংক্রান্ত চিকিৎসা বা ‘ক্লেফট অ্যান্ড ক্র্যানিওফেসিয়াল কেয়ার’-এ বিশেষ প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দেওয়া। প্রতি বছর একজন এমডি চিকিৎসককে এক বছরের জন্য এই বিশেষ প্রশিক্ষণে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে সচিন তেন্ডুলকর ফাউন্ডেশনের তরফে শংসাপত্রও দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
শিক্ষক দিবসে এই ফেলোশিপ ঘোষণা করতে গিয়ে বাবার সঙ্গে নিজের সম্পর্ক এবং তাঁর জীবনে বাবার প্রভাবের কথা তুলে ধরেছেন শচীন। তাঁর কথায়, ক্রিকেটের মাঠ বা কোনও কোচ দিয়ে তাঁর জীবনের গল্প শুরু নয়। বরং শুরু হয়েছিল নিজের বাড়ি থেকেই। রমেশ তেন্ডুলকর ছিলেন অধ্যাপক, লেখক এবং কবি।
কিন্তু শচীনের কাছে তিনি ছিলেন তার থেকেও বেশি। একজন পথপ্রদর্শক তথা পরামর্শদাতা। ক্রিকেটকে পেশা হিসাবে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাবার কাছ থেকে পূর্ণ স্বাধীনতা পেয়েছিলেন শচীন। তবে একই সঙ্গে এটাও শিখেছিলেন যে, সাফল্যের জন্য কখনওই চরিত্রের সঙ্গে আপোষ করা যায় না।
শৈশবের সেই শিক্ষার কথাও স্মরণ করেছেন শচীন। বাবার দেওয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ এটাই ছিল যে, ব্যর্থ হওয়া অপরাধ নয়। তাই কারও সঙ্গে প্রতারণা করা কিংবা জীবনে কখনও শর্টকাটের পথে হাঁটা উচিত নয়। শচীনের মতে, তাঁর বাবা তাঁর প্রতিভা ও আগ্রহ বুঝতে পেরেছিলেন। কিন্তু কখনও নিজের ইচ্ছা তাঁর ওপর চাপিয়ে দেননি। বরং নিজের পথ নিজেকেই খুঁজে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন। আর সেই অভিজ্ঞতাই শচীনের মনে শিক্ষক আর পরামর্শদাতাদের গুরুত্ব আরও গভীরভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে।
শচীন জানিয়েছেন, এই ফেলোশিপ তাঁর কাছে শুধুমাত্র একটি শিক্ষাবৃত্তি নয়, বাবার বিশ্বাস ও আদর্শকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একটি প্রয়াস। তাঁর বক্তব্য, দেশে প্রতিভার অভাব নেই। কিন্তু এমন বহু তরুণ আছেন, যাঁরা উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, পরামর্শদাতা, শিক্ষার পরিবেশ কিংবা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সহায়তার সুযোগ পান না।
সেই ঘাটতি কিছুটা পূরণ করতেই এই উদ্যোগ। ১৯৯৯ সালে মুম্বইয়ের বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৬৮ বছর বয়সে প্রয়াত হন রমেশ তেন্ডুলকর। এ বার তাঁর শিক্ষা ও মানবিকতার উত্তরাধিকারই নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকদের হাতে তুলে দিতে চাইছেন শচীন।