মুর্শিদাবাদ, নিউজ ডেস্ক: দুপুরের রাস্তা তখন ব্যস্ত। পুলিশের গাড়ি এগিয়ে চলেছে নিজের গতিতে। একটি সাধারন যাত্রা যে এত দ্রুত নাটকীয় মোড় নিতে পারে, তা হয়তো কেউ ভাবেননি। গন্তব্যের মাঝপথে একটি কাজে থামতে বদলে গেল গোটা পরিস্থিতি। কয়েক মুহূর্তের ফাঁক, এবং তারপরে হিসেব মিলল না। গাড়িতে দুজন নেই, শুরু হলো তল্লাশি। অবশেষে মিলল পলাতকদের হদিস।
ঘটনাটি মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ এলাকায়। জানা গিয়েছে, শুক্রবার আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে পুলিশের গাড়ি থেকে দুই বাংলাদেশি আসামির পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকাতে। দীর্ঘ তল্লাশি এবং নাকা চেকিংয়ের পর শনিবার সকালে মিয়াপুর এলাকা থেকে মহম্মদ রুবেল শেখকে গ্রেফতার করে রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিশ।
এই ঘটনার সূত্রপাত অবশ্য একদিন আগে ঘটেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার কৃষ্ণশাইল এলাকা মোড় থেকে আনরুল শেখ ও মহম্মদ রুবেল শেখ নামে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে তাঁদের বাড়ি বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকাতে বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে, শুক্রবার দুপুর ১২ টা নাগাদ আরও তিন আসামির সঙ্গে তাদের জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে জানা গিয়েছে। পথে নথিপত্রের জেরক্স করাতে এক পুলিশকর্মী গাড়ি থেকে নামেন। আর অভিযোগ উঠে, ঠিক সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পুলিশের গাড়ি থেকে পালিয়ে যায় আনরুল ও রুবেল।
এরপর যেন শুরু হল দৌড়াদৌড়ির পালা। পুলিশ দ্রুত চারদিকে তল্লাশি শুরু করে ধৃতদের খোঁজে। এরপর কিছুক্ষণের পর আনরুল ধরা পড়লেও রুবেলের কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছিল না। তদন্তে জানা যায়, খড়খড়ি নদীর পার হয়ে, সে গোপালনগরের ঘন জঙ্গলের দিকে গাঢাকা দিয়েছে।
রাত নামার পরও থামেনি পুলিশের অভিযান। জঙ্গল ঘিরে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি আশেপাশের সম্ভাব্য রাস্তা গুলিতেও নাকা চেকিং চালানো হয়। স্থানীয়রা জানান, জঙ্গলের ভিতরে রুবেল কে একবার দেখা গেলেও পুলিশ পৌঁছনোর আগে সে ফের গা ঢাকা দেয়। এরপরও হাল ছাড়েনি পুলিশ বাহিনী।
অবশেষে শনিবার সকালে মিয়াপুর এলাকায় রুবেলের সন্ধান মিলে এবং সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এখন দুই আসামী পুলিশের হেফাজত থেকে কিভাবে পালানোর সুযোগ পেল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন বিভিন্ন মহলে।