কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজো। এবার পুজোয় বিশ্বমঞ্চে বাংলার সংস্কৃতি মেলে ধরতে মহা-উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে নবান্নের পক্ষ থেকে। ৩ হাজার ড্রোনে মহাজাগতিক রূপ পাবে মহানগরীর আকাশ।
শারদোৎসবে এবার বিশ্বমানের প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের সাক্ষী হতে চলেছে তিলোত্তমার আকাশ। উৎসবের দিনগুলিতে অন্ধকার চিরে রাতের আকাশ আলোকিত করবে প্রায় ৩,০০০টি চালকহীন ড্রোন। অত্যাধুনিক আলো, সুর ও ডিজিটাল অ্যানিমেশনের সমন্বয়ে মহাকাশের সুবিশাল ক্যানভাসে ফুটে উঠবে দেবীর আগমনী বার্তা সহ বঙ্গ সংস্কৃতির নানা অধ্যায়।
রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ মহল সূত্রে খবর, ইউনেস্কো স্বীকৃত বাংলার দুর্গাপুজোকে আন্তর্জাতিক স্তরে আরও বৃহত্তর পরিসরে ছড়িয়ে দিতেই এই মেগা প্রকল্পের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, উৎসবের এই সরকারি আয়োজনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হতে চলেছে আগামী ১০ অক্টোবর, মহালয়ার পুণ্যলগ্নে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, কলকাতার ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেন্সে বসতে পারে জমকালো উদ্বোধনী আসর। সেখানে কয়েক হাজার ঢাকির সম্মিলিত বাদ্যে এক অনন্য বিশ্বরেকর্ড গড়ার প্রস্তুতিও চলছে পুরোদমে।
একই সঙ্গে মঞ্চের পরিবেশনা ও আকাশের বুকে ড্রোনের সুসংগত কোরিওগ্রাফির মাধ্যমে জীবন্ত হয়ে উঠবে মহিষাসুরমর্দিনীর পৌরাণিক দৃশ্যপট। রাতের আকাশে এই জটিল বিন্যাসের সুরক্ষাবিধি মেনে ডিজিসিএ সহ বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকারী সমস্ত সংস্থার প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নেওয়ার কাজও শুরু হয়েছে।
বাংলার এই লোকউৎসবকে কেবল রাজ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে অনাবাসী ভারতীয় এবং বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা ভারতীয় দূতাবাস, কনস্যুলেট এবং অনাবাসী বাঙালি সংগঠনগুলোকে সরাসরি এই উৎসবের সঙ্গে লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে যুক্ত করা হবে।
আন্তর্জাতিক স্তরে নিরবচ্ছিন্ন ডিজিটাল ফিড সচল রাখতে এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটি এড়াতে কলকাতায় তৈরি হচ্ছে একটি আধুনিক কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ। সমগ্র ব্যবস্থাপনা নিখুঁতভাবে পরিচালনা করতে ইতিমধ্যে পেশাদার ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা বাছাইয়ের জন্য সরকারি দরপত্রও জারি করা হয়েছে।
মহালয়ার উদ্বোধনের পর উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হতে চলেছে মহাষ্টমী। ওই দিন ধুনুচি নাচ ও বিশেষ আলোকসজ্জার মেলবন্ধনে ঐতিহ্যবাহী পরিবেশ তৈরি করা হবে।
এছাড়া পর্যটন দপ্তরের তত্ত্বাবধানে কোনো বড় স্টেডিয়াম বা প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত হতে চলেছে প্রায় চার ঘণ্টার এক ‘গ্র্যান্ড কনসার্ট’। তারকা শিল্পীদের পাশাপাশি ছৌ, ঝুমুর, বাউল, কীর্তন, রবীন্দ্রসংগীত এবং নেপালি লোকসংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটবে সেখানে। এর পাশাপাশি শহরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ভবন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যগুলিকে কেবল স্থাপত্যভিত্তিক মার্জিত আলোয় সাজিয়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা বাংলার হস্তশিল্প, তাঁত ও বর্ণময় সংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে অনন্য মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করবে।