হাওড়া, নিউজ ডেস্ক: মায়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের জটিলতা কাটাতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হওয়ার মুখে পড়লেন এক মহিলা। আইনি জটিলতা ও ফৌজদারি মামলার জুজু দেখিয়ে দফায় দফায় লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগে হাওড়ার নিশ্চিন্দা থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর থানার পুলিশ। ধৃতের নাম সুদীপ বিশ্বাস। নিজেকে গবেষক ও চিকিৎসক দাবি করলেও তার পক্ষে কোনও বৈধ নথি দেখাতে পারেনি সে।
তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগকারিণীর মায়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ‘ডেবিট-ফ্রিজ’ হয়ে যাওয়ায় তিনি পরিচিত সুদীপের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। কিন্তু সুরাহার বদলে সেই অসহায়তার সুযোগ নেয় অভিযুক্ত ও তার স্ত্রী মন্দিরা সামন্ত। ওই মহিলা ও তাঁর পরিবার কোনও এক গুরুতর ফৌজদারি মামলায় জড়িয়ে পড়েছেন দাবি করে সাজানো আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা হয়। সমস্যা ধামাচাপা দিতে প্রশাসন, আইনজীবী এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের গল্প ফাঁদে অভিযুক্ত দম্পতি।
পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নিজেদের দলবলকে কাজে লাগিয়ে ভুয়ো পুলিশ অফিসার ও রাজনৈতিক নেতার পরিচয়ে অভিযোগকারিণীকে ফোনে হুমকি দেওয়ানো হতে থাকে। এই ধারাবাহিক মানসিক চাপের মুখে পড়ে 'ঝামেলা মেটানো'র নামে দফায় দফায় মোট ৬ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা খোয়ান ওই মহিলা। আর্থিক প্রতারণার পাশাপাশি তাঁকে কুপ্রস্তাব দেওয়ারও গুরুতর অভিযোগ ওঠে সুদীপের বিরুদ্ধে।
পরিস্থিতি চরমে পৌঁছলে ভবানীপুর থানার দ্বারস্থ হন ওই মহিলা। অভিযোগের ভিত্তিতে থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক সৌমিত্র বসুর নেতৃত্বে হাওড়ার আনন্দনগরে তল্লাশি চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। বাজেয়াপ্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখার পাশাপাশি চক্রের বাকি ভুয়ো চরিত্রগুলির সন্ধান পেতে ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনায় অভিযুক্তের স্ত্রীর ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।