নৈহাটি, নিউজ ডেস্ক: বাড়ি মানেই মানুষের কাছে নিরাপদ আশ্রয়। হাজারো পরিশ্রমের পর নিজের বাড়ি ফিরে ক্লান্তি দূর করেন সকলে। কিন্তু সেই নিরাপদ আশ্রয়টি যদি প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে অন্যের দখলে চলে যায় তখন রীতিমতো মাথায় হাত পরে বাড়ির মালিকের। শেষ পর্যন্ত আইনের দারস্ত হতে হয় এই প্রতারণার জাল ছিন্ন করতে।
একটি বিলাসবহুল বাড়ি। সেই বাড়িকে ঘিরেই ছিলো জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ। এরপর দীর্ঘদিন পুলিশের তদন্ত চলে। পুলিশের পক্ষ থেকে টানা তদন্ত চালানোর পর গ্রেফতার করা হয় নৈহাটি শহর INTTUC সভাপতি বিষ্ণু অধিকারীর স্ত্রী ঈশানি সরকার অধিকারীকে। এই ঘটনাকে ঘিরে গোটা নৈহাটি এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় ৬ সেপ্টেম্বর। তদন্তি নেমে পুলিশের হাতে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নৈহাটি শহরের যে বিলাসবহুল বাড়িটিতে বর্তমানে বিষ্ণু অধিকারী থাকেন, সেই বাড়ির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উঠছিল গুরুতর অভিযোগ। অভিযোগ, ২০২১ সালে অন্য এক মহিলার কাছ থেকে জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে বাড়িটি বেআইনিভাবে দখল করা হয়েছিল। এমনই অভিযোগ উঠেছিল বিষ্ণু অধিকারীর স্ত্রীর বিরুদ্ধে।
এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই তদন্তে নামে নৈহাটি থানার পুলিশ। তখনই তাদের হাতে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। এমনকি গত ২০ আগস্ট বিষ্ণু অধিকারীর বাড়িতে নোটিশ পাঠায় পুলিশ। এরপর বাড়িটির দখল ও মালিকানা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা। তখন বহু গুরুত্বপূর্ণ নথি তাদের হাতে আসে।
তদন্তে উঠে আসা তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে রবিবার পদক্ষেপ গ্রহণ করে পুলিশ। বেআইনি বাড়ি দখলদারির অভিযোগে বিষ্ণু অধিকারীর স্ত্রী ঈশানী সরকারকে রবিবার গ্রেফতার করে নৈহাটি থানার পুলিশ। ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে যায় গোটা এলাকায়।
রাজনৈতিক নেতার পরিবারের সদস্যকে বাড়ি দখল ও প্রতারণার মতো গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নৈহাটির রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কিভাবে এই ঘটনা ঘটলো? এই ঘটনার পেছনে আরও কারা কারা জড়িয়ে রয়েছে? কিভাবে একটি বিলাসবহুল বাড়ি তৃণমূল নেতার স্ত্রীর দখলে চলে গেল? এই সমস্ত কিছু নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
যদিও অভিযুক্তের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। গোটা ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে নৈহাটি থানার পুলিশ। এই ঘটনার পরেই আবারও তৃণমূল নেতার মদতে প্রতারণা ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।