কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: বৃষ্টি নামার সাথেই দুশ্চিন্তা, ঝড় উঠলে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় কখন কোথায় বিদ্যুতের তার ছিড়ে বড়সড় বিপদ ঘটে। শহরের বাসিন্দাদের কাছে এমন অভিজ্ঞতা নতুন নয়। শহরের পরিচিত দৃশ্যটাই এবার বদলের মুখে। রাস্তার দু'ধারে খুঁটি এবং মাথার উপর দিয়ে চলে যাওয়া অসংখ্য তার, আর দুর্যোগের সময় সেগুলি ঘিরে আতঙ্ক, ধীরে ধীরে এই ছবি অতীত হতে পারে। আপাতত কয়েকটি শহরকে সামনে রেখে শুরু হতে চলেছে নতুন পরিকল্পনা। যা শহরের বিদ্যুৎ পরিষেবায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
সূত্রে খবর, পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুৎ বন্টন সংস্থা (WBSEDCL) প্রথম পর্যায়ে রাজ্যের ছটি শহরে বিদ্যুতের ওভারহেড লাইন সরিয়ে ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ কেবল বসানোর কাজ শুরু করতে চলেছে। সংস্থার প্রজেক্ট - ৩ এর অধীনে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে কাজের জন্য আলাদা আলাদা ই- টেন্ডার ডাকা হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হলেই ধাপে ধাপে কাজ শুরু হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। কাজের প্রথম পর্যায়ের তালিকায় রয়েছে ছটি শহর, পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি ও এগরা, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, বালুরঘাট এবং সিউড়ি। এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হল শহরগুলিতে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকাঠামোকে আরও আধুনিক ও নিরাপদ করে তোলা।
বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি ও এগরাকে। সমুদ্রের উপকূলবর্তী হওয়ায় পূর্ব মেদিনীপুরের এই দুই শহরে ভারী বৃষ্টি এবং ঘূর্ণিঝড় এর প্রভাব প্রায়ই দেখা যায়। ফলে, দুর্যোগের সময়ে বিদ্যুতের খুঁটি বা তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবন কার্যত ঝুঁকির মুখে পড়ে। মাটির নিচে কেবল চলে গেলে সেই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বিদ্যুতের ছেঁড়া তার থেকে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও কমবে। শহরের রাস্তায় বৈদ্যুতিক তারের জটলা না থাকায় শহর আরও পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর হয়ে উঠবে।
তবে, শহরের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ চুরি রোধ এবং পরিষেবার মান আরও উন্নত করা এই পরিষেবার অন্যতম লক্ষ্য। ওভারহেড লাইনের তুলনায় ভূগর্ভস্থ নেটওয়ার্ককে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে তুলনামূলক সুরক্ষিত রাখা যাবে। ফলে, বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও সচল ও সহজ রাখা যাবে। WBSEDCL এর এই উদ্যোগকে শহরগুলির বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ছটি শহরের কাজ কত দ্রুত এগোয়, তার উপরেই নির্ভর করবে ভবিষ্যতে আরও কোনো শহর এই প্রকল্পের আওতায় আসবে কিনা। এখন টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে কবে থেকে বাস্তবে কাজ শুরু হয়, নজর সেদিকেই।