নিউজ ডেস্ক: ভূস্বর্গে ফের বড়সড় সাফল্য ভারতের নিরাপত্তাবাহিনীর। জম্মু ও কাশ্মীরের বডগাম জেলার ইউসমার্গের উঁচু পার্বত্য এলাকায় দুই দিনব্যাপী জঙ্গি-বিরোধী অভিযানে খতম করা হল নিষিদ্ধ সন্ত্রাসবাদী সংগঠন লস্কর-ই-তইবার পাকিস্তানি জঙ্গি ইয়াসিরকে। শুক্রবার ঘন জঙ্গলের মধ্যে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে মৃত্যু হয়েছে তার। তবে ইয়াসিরের সঙ্গে থাকা আরও এক-দু’জন জঙ্গির খোঁজে তল্লাশি চলছে।
নিরাপত্তাবাহিনী সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইউসমার্গের আশদার গলি এলাকার দুর্গম জঙ্গলে জঙ্গিদের গতিবিধির সন্ধান মেলে। তার পরেই শুরু হয় অভিযান। জঙ্গলে নজরদারির জন্য ড্রোন-সহ একাধিক অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। অভিযানে বিশেষ বাহিনীর সদস্যরাও যোগ দেন।
জানা গিয়েছে, ইয়াসিরের মৃত্যু লস্করের জন্য বড় ধাক্কা। গত কয়েক বছরে অন্তত ৫টি হামলার সঙ্গে তার যোগ ছিল বলে অভিযোগ। সেই হামলাগুলিতে ১২ জন সেনা, এক জন বায়ুসেনা কর্মী এবং ৯ জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি সূত্রটির।
২০২৪ সালের ৪ মে পুঞ্চের শাহসিতারে বায়ুসেনার কনভয়ে হামলার ঘটনায় ইয়াসিরের নাম উঠে আসে। ওই হামলায় এক বায়ুসেনা কর্মীর মৃত্যু এবং চার জন আহত হন। একই ভাবে ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর গুলমার্গের বুটা পাথরিতে সেনার উপর হামলার সঙ্গেও তার যোগ ছিল বলে অভিযোগ। সেই ঘটনায় দুই সেনা জওয়ান এবং দুই পোর্টার নিহত হন।
তবে ইয়াসিরের সন্ত্রাসের তালিকা এখানেই শেষ নয়। গত ২০২৩ সালের ২০ এপ্রিল পুঞ্চের বুটা দুরিয়ানে সেনার গাড়িতে হামলায় পাঁচ জওয়ানের মৃত্যুর ঘটনাতেও তার হাত ছিল বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা সূত্র। ওই বছরের ২১ ডিসেম্বর পুঞ্চের সুরনকোটের ডেরা কি গলিতে সেনার উপর হামলায় ৪ জওয়ান নিহত হন।
২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর মধ্য কাশ্মীরের সোনমার্গের গগনগীরে নির্মাণকর্মীদের উপর হামলার সঙ্গেও ইয়াসিরের নাম জড়িয়েছে। সেখানে ছয় নির্মাণকর্মী এবং এক স্থানীয় চিকিৎসক নিহত হন। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা সংস্থার নজরে ছিল সে।
সূত্রের খবর, লস্কর কমান্ডার মুসার সঙ্গে ইয়াসির গত কয়েক বছর ধরে রাজৌরি এবং পুঞ্চের পার্বত্য এলাকায় সক্রিয় ছিল। নিরাপত্তা অভিযান জোরদার হওয়ার পর তারা পির পাঞ্জাল পেরিয়ে কাশ্মীর উপত্যকায় ঢুকে পড়ে। বডগাম ও পুলওয়ামার দুর্গম পার্বত্য এলাকায় আশ্রয় নিয়ে নতুন করে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছিল তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তাবাহিনীর নজর এড়াতে পারেনি। বৃহস্পতিবার ইউসমার্গের ঘন জঙ্গলে তাদের ঘিরে ফেলে বাহিনী। এর পর শুক্রবার গুলির লড়াইয়ে খতম ইয়াসির। এখন মুসা-সহ বাকি জঙ্গিদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে নিরাপত্তাবাহিনী।