নয়াদিল্লি, নিউজ ডেস্ক: দিল্লির নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শ্রীরাম কলেজ অফ কমার্সের (SRCC) শতবর্ষ উদ্যাপনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ফের বিরোধীদের নিশানা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবারের অনুষ্ঠানে তাঁর বক্তৃতার অন্যতম চর্চিত বিষয় হয়ে উঠল ‘দিমাগি নকশাল’ মন্তব্য। যুবসমাজ, বিশেষ করে জেন-জি-র সামনে উন্নত ভারতের স্বপ্ন তুলে ধরার পাশাপাশি রাজনৈতিক বিরোধীদের কটাক্ষ করতেও সরব হন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, লালকেল্লা থেকে দেওয়া 'দিমাগি নকশাল' মন্তব্য যেন হোমিওপ্যাথিক ওষুধের মতো কাজ করেছে। মোদীর কথায়, এই মন্তব্যের পর একে একে যাঁরা প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, তাঁদের ‘আসল রং’ সাধারণ মানুষ দেখতে পাচ্ছেন।
বক্তৃতায় মোদী বলেন, 'দিমাগি নকশাল' নামের সেই 'হোমিওপ্যাথিক পিল' দেওয়ার পরেই নাকি একের পর এক বিরোধী সামনে আসতে শুরু করেছেন। হোমিওপ্যাথির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে প্রথমে রোগের উপসর্গ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। একই ভাবে তাঁর মন্তব্যের পর সমালোচকদের প্রতিক্রিয়াতেই তাঁদের প্রকৃত অবস্থান প্রকাশ পেয়েছে বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। রাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি অবশ্য তাঁর বক্তব্যের বড় অংশ জুড়ে ছিল তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে বার্তা। উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্যে নতুন প্রজন্মকে উচ্চাকাঙ্ক্ষী চিন্তা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অতীতে দেশের বিভিন্ন সঙ্কটের প্রসঙ্গ টেনে মোদী প্রশ্ন তোলেন, তাঁর সরকারের সামনে আসা একের পর এক কঠিন পরিস্থিতি সামলানো কি সত্যিই সহজ ছিল? ২০১৩ সালের কেদারনাথ বিপর্যয়ের উদাহরণ দিয়ে তিনি দাবি করেন, সেই সময় গোটা সরকার কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েছিল। ২০০৮ সালের বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার প্রসঙ্গেও পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। মোদীর অভিযোগ, সেই সময় ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা কার্যত বিপর্যয়ের মুখে চলে গেলেও সরকার যথাযথ পদক্ষেপ করতে পারেনি। এই প্রসঙ্গেই তিনি পড়ুয়াদের দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের ভারত সম্পর্কে নতুন করে ভাবার আহ্বান জানান।
এর পর নিজের সরকারের আমলে একাধিক সঙ্কটের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। কোভিড-১৯ অতিমারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য ও সরবরাহ শৃঙ্খলের চাপ এবং পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কট ইত্যাদি ঘটনাগুলির উল্লেখ করে মোদী বলেন, প্রতিটি পর্যায়েই অনেকে ভেবেছিলেন যে ভারত হয়তো আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। তাঁর দাবি, দেশের মানুষের আশীর্বাদ ও সমর্থনের জোরেই সেই আশঙ্কা বার বার ভুল প্রমাণিত হয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীনও SRCC-তে গিয়েছিলেন মোদী। সেই সময় ছাত্রদের উদ্দেশ্যে দেওয়া তাঁর বক্তৃতা ব্যাপকভাবে সাড়া ফেলেছিল সমাজ মাধ্যমে। এর পর তা নতুন করে আলোচনায় আসে ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনের আগেও।