নিউজ ডেস্ক: চারপাশে শুধু কাদা, ধ্বংসস্তূপ আর হাহাকার। তারই মধ্যে বাড়ির চারতলার ঘরে টানা ১০ দিন আটকে থাকার পর জীবন্ত উদ্ধার হলেন ৬০ বছরের এক মহিলা। নেপালের নুওয়াকোট জেলার বিদুর শহরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে। উক্ত মহিলার নাম চণ্ডিকা শ্রেষ্ঠা। প্রবল বন্যা ও ভূমিধসের জেরে ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে গিয়েছিল তাঁর বাড়ি। শেষ পর্যন্ত চারতলার জানলার কাছে পৌঁছে চণ্ডিকাকে টেনে বার করেন উদ্ধারকারীরা। নেপাল পুলিশের তরফে প্রকাশিত একটি ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, উদ্ধারকারীরা কাদা ও পলি সরিয়ে জানলার ভিতর থেকে তাঁকে বার করে আনছেন। তখন অবশ্য অচেতন ছিলেন চণ্ডিকা। এর পর তাঁকে ঢেকে দেওয়া হয় উদ্ধারকারীরা কম্বল ও জ্যাকেট দিয়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ধীরে ধীরে জ্ঞান ফেরে তাঁর।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, চণ্ডিকাকে উদ্ধার করেছে ৯ সদস্যের আর্মড পুলিশ ফোর্সের (এপিএফ) একটি দল। উদ্ধারের পর হেলিকপ্টারে তাঁকে ত্রিশুলির নেপালি সেনার মৈথিলি ব্যারাকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই ব্যবস্থা করা হয় প্রাথমিক চিকিৎসার। পরে তাঁকে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুতে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানিয়েছেন এপিএফের ডেপুটি মুখপাত্র শৈলেন্দ্র থাপা। এ দিকে টানা ১০ দিন কোনওরকমে ওই বাড়ির চারতলায় বেঁচে থাকা এবং শেষ পর্যন্ত উদ্ধার হওয়ার ঘটনাটিকে কার্যত অলৌকিক বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।
গত ২৬ অগাস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে বরফ ও পাথরের ধসের জেরে নেমে আসে ভয়াবহ হড়পা বান। সেই জলের তোড়ে কার্যত তছনছ হয়ে যায় উত্তর ও মধ্য নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা। ভেসে যায় বাড়ি, গাড়ি, রাস্তা ও সেতু। ক্ষতিগ্রস্ত হয় একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও। হিমালয় সীমান্ত এলাকা থেকে দক্ষিণ দিকে বয়ে আসা ভোতে কোশী নদী সেই বিপুল জলরাশি বহন করে নিয়ে যায় নীচের জনপদগুলির দিকে। তার জেরে একের পর এক গ্রাম ও শহরে তৈরি হয় ভয়াবহ পরিস্থিতি।
প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, এই বিপর্যয়ে ইতিমধ্যেই ১,৩০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৫,০০০ মানুষ এখনও নিখোঁজ। তবে উদ্ধারকাজও জোরকদমে চলছে। এখনও পর্যন্ত ১৩ হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। সেই উদ্ধারপর্বেই ১০ দিন পর চণ্ডিকার জীবন্ত ফিরে আসা যেন ধ্বংসস্তূপের মধ্যে নতুন করে আশার আলো দেখাল। ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পরেও যে বেঁচে থাকার লড়াই শেষ হয়ে যায় না, নেপালের এই প্রৌঢ়ার উদ্ধার তারই নজির হয়ে রইল।