স্পোর্টস ডেস্ক: দিন কয়েক আগেই একটি রিপোর্টে সামনে এসেছিল খবরটা। আসন্ন নিউজিল্যান্ড সফরের জন্য মহম্মদ শামিকে ভাবছে না অজিত আগরকারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক প্যানেল। তবে টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন বোলিং কোচ ভরত অরুণ মনে করছেন, জাতীয় দলে মহম্মদ শামির প্রত্যাবর্তনের দরজা এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। তাঁর সাফ কথা, বয়স দিয়ে কোনও ক্রিকেটারের ভবিষ্যৎ বিচার করা উচিত নয়। পারফরম্যান্স এবং ফিটনেসই হওয়া উচিত নির্বাচনের মূল মাপকাঠি।
দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় দলের বাইরে শামি। শেষবার তাঁকে ভারতের জার্সিতে দেখা গিয়েছিল ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে। ৩৬ বছরের পেসার এর পর চোট-আঘাত এবং ফিটনেসের সমস্যার কারণে টিম ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনার বাইরে চলে যান। ৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে টেস্ট খেলেননি তিনি। যদিও ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর ধার এখনও যে ফুরোয়নি, তার প্রমাণ মিলেছে বার বার। দলীপ ট্রফির ফাইনালে পূর্বাঞ্চলের হয়ে মাঠে নামলে নিজের শততম প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলবেন শামি। তাঁর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বোলিং গড় ২৬.৩০। আর ভারতের হয়ে ৬৪টি টেস্টে গড় ২৭.৭১।
শামিকে নিয়ে তাই হেড কোচ গৌতম গম্ভীর এবং নির্বাচক প্রধান আগরকারের উদ্দেশ্যে অরুণের বার্তা বেশ স্পষ্ট। তাঁর মতে, “শামির জন্য দরজা বন্ধ করা উচিত হয়নি। ওর মধ্যে এখনও অনেক ক্রিকেট বাকি।” অরুণের যুক্তি, কোনও ক্রিকেটার যখন নিয়মিত পারফর্ম করছেন, তখন বয়সকে সামনে এনে তাঁকে বাদ দেওয়া ঠিক নয়। শামির স্থায়িত্বেরও প্রশংসা করেছেন তিনি। লাল বল হাতে এই পেসারের ভালবাসার কথাও উঠে এসেছে অরুণের বক্তব্যে। তাঁর দাবি, নেটে হোক কিংবা ম্যাচে, হাতে বল পেলেই নিজের রান-আপে ফিরে যেতে পারেন শামি।
শামির প্রত্যাবর্তনের তাগিদ অবশ্য শুধু অরুণের চোখেই ধরা পড়েনি। পূর্বাঞ্চলের অধিনায়ক ঈশান কিষাণও জানিয়েছেন, জাতীয় দলে ফেরার খিদেটা এখনও শামির মধ্যে প্রবল। নিয়মিত ভারতীয় দলে না থাকলে ঘরোয়া ক্রিকেটে এই রকম অনুপ্রেরণা ধরে রাখা কঠিন। কিন্তু শামির ক্ষেত্রে আজও খেলার প্রতি আগ্রহ স্পষ্ট বলেই মনে করেন ঈশান। তার ওপর ২০২৬ সালের আইপিএলেও লখনউ সুপার জায়ান্টসের হয়ে ১৩ ম্যাচে ১২টি উইকেট নিয়েছেন শামি। ফলে প্রশ্নটা এখন একটাই। ঘরোয়া ক্রিকেটে ফের নিজেকে প্রমাণ করা এই অভিজ্ঞ পেসারকে কি আবার জাতীয় দলের দরজা খুলে দেওয়া হবে?