নিউজ ডেস্ক: মা কোথায়? সেই প্রশ্নের উত্তর জানা নেই। তবু মায়ের স্নেহের উষ্ণতা খুঁজে ফিরছে একরত্তি বাছুর। সম্প্রতি সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিয়োয় সামনে এসেছে এমনই এক মর্মস্পর্শী দৃশ্য। সেখানে দেখা যাচ্ছে, মায়ের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া একটি ছোট বাছুর রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা দুধের গাড়ির গায়ে আঁকা গরুর ছবির সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।
ছবিটিকেই যেন নিজের মা বলে ভুল করেছে সে। তার পর ছোট্ট পায়ে ভর দিয়ে বার বার ছবিটির কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে দুধ খাওয়ার চেষ্টা করছে। দৃশ্যটি দেখে অনেকেরই চোখে জল এসেছে। নেটপাড়ায় তাই এই প্রশ্নও উঠেছে যে, একটি মাতৃহারা অবলা প্রাণীর যন্ত্রণা কি মানুষের লাভ-ক্ষতির হিসেবের আড়ালে চাপা পড়ে যাবে?
ভিডিয়ো ফুটেজটিতে দেখা গিয়েছে, গাড়ির গায়ে আঁকা গরুর ছবির সঙ্গে অদ্ভুত মমতায় জড়িয়ে পড়েছে বাছুরটি। কখনও ছবিটির গায়ে মুখ ঘষছে। কখনও নাক দিয়ে স্পর্শ করছে। আবার কখনও ছবির নীচের অংশে মুখ নিয়ে গিয়ে দুধ পাওয়ার চেষ্টা করছে। যেন তার বিশ্বাস, ওই ছবির আড়ালেই লুকিয়ে রয়েছে তার মা।
সূত্র: https://x.com/VishalMYadav_/status/2095871095778025645?s=20
কিন্তু সেখানে দুধ নেই। নেই মায়ের শরীরের উষ্ণতা। নেই পরিচিত গন্ধও। রয়েছে শুধু একটি নিষ্প্রাণ ছবি। কয়েক মুহূর্তের সেই দৃশ্যই যেন বুঝিয়ে দেয়, মায়ের অভাব একটি প্রাণীর কাছেও কতটা গভীর হতে পারে। কথা বলতে না পারলেও বাছুরটির আচরণই যেন তার সমস্ত কষ্টের ভাষা হয়ে উঠেছে।
এই ফুটেজকে ঘিরে প্রশ্ন উঠছে দুগ্ধশিল্পের নানা দিক নিয়েও। সমালোচকদের অভিযোগ, বাণিজ্যিক দুগ্ধ উৎপাদনের ক্ষেত্রে অনেক সময় জন্মের পরেই বাছুরকে তার মায়ের কাছ থেকে আলাদা করে রাখা হয়। ফলে মানুষের দুধের চাহিদা মেটাতে গিয়ে প্রাণীটির স্বাভাবিক মাতৃত্বের অধিকার কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে, সেই প্রশ্নও নতুন করে সামনে আসছে। যদিও এখনও পর্যন্ত এই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। কোথায় এই ঘটনাটি ঘটেছে তাও জানা সম্ভব হয়নি। তবে দৃশ্যটি যে মানুষের মানবিক দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে ভাবার জায়গা তৈরি করল, তা বলাই যায়।
মাকে খুঁজতে গিয়ে মায়ের ছবির কাছেই আশ্রয় নেওয়া সেই ছোট্ট প্রাণীটি তাই শুধু সমাজ মাধ্যমের একটি আবেগঘন ভিডিয়ো হয়েই থাকেনি। বরং নীরবে ছুড়ে দিয়েছে বড় এক প্রশ্ন। মানুষের প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে অন্যান্য প্রাণীদের অনুভূতি, সম্পর্ক এবং স্বাভাবিক অধিকারকে আমরা কতটা জায়গা দিই?
যে বাছুরটি লোহার গাড়ির গায়ে আঁকা একটি ছবিকে মা ভেবে নিয়েছিল, তার কাছে হয়তো সেটিই ছিল শেষ আশার জায়গা। মায়ের দুধের কয়েক ফোঁটা কিংবা পরিচিত স্পর্শের আশায় ছবিটির গায়ে মুখ ঘষতে থাকা সেই অবোধ প্রাণী যেন কোনও অভিযোগ না করেই একটি আয়না তুলে ধরেছে মানুষের সামনে।