নয়াদিল্লি: রবিবার দুপুরে আচমকাই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল একটি বাড়ি। মুহূর্তের মধ্যে কংক্রিট, ইট আর লোহার কাঠামোর নীচে চাপা পড়ে গেলেন বেশ কয়েক জন, এমনই আশঙ্কায় দিল্লিতে শুরু হয়েছে জোরকদমে উদ্ধারকাজ। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল ও পুলিশ।
দিল্লি দমকল সূত্রে খবর, রবিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ বাড়ি ভেঙে পড়ার খবর আসে। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় পাঁচটি দমকলের ইঞ্জিন। পুলিশকেও ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। ধ্বংসস্তূপের নীচে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে শুরু হয় তল্লাশি।
প্রাথমিক ভাবে বেশ কয়েক জনের ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে ঠিক কত জন সেখানে ছিলেন, তাঁদের মধ্যে কেউ আহত বা নিহত হয়েছেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। উদ্ধারকারী দল ধাপে ধাপে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ভিতরে পৌঁছনোর চেষ্টা করছে। ঘটনাস্থল ঘিরে তৈরি হয়েছে উদ্বেগের পরিবেশ।
দিল্লিতে গত কয়েক দিন ধরেই প্রবল বৃষ্টি চলছে। রবিবারও রাজধানী এবং সংলগ্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ইতিমধ্যেই বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন অংশে জল জমেছে এবং জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই বাড়ি ভেঙে পড়ার ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, কাঠামোটির দুর্বলতা কিংবা নির্মাণগত কোনও সমস্যা ছিল কি না। তবে বাড়ি ভেঙে পড়ার প্রকৃত কারণ এখনও সরকারি ভাবে জানানো হয়নি।
ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী দল কাজ করছে। ধ্বংসস্তূপের প্রতিটি অংশ সতর্কতার সঙ্গে সরানো হচ্ছে, যাতে ভিতরে কেউ জীবিত থাকলে তাঁকে নিরাপদে বার করে আনা যায়। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে সাহায্যের জন্য ঘটনাস্থলে জড়ো হয়েছেন।
দিল্লিতে পর পর বাড়ি ধসের ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ রয়েছে। চলতি বছরেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি ভেঙে পড়ে বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। মে মাসে সাকেত মেট্রো স্টেশনের কাছে একটি বহুতল ভবন ভেঙে পড়ার ঘটনায় ছ’জনের মৃত্যু হয়েছিল। পরে সেই ঘটনায় নির্মাণবিধি ও নজরদারি নিয়ে প্রশ্নও উঠেছিল।
ফলে সত্য নিকেতনের এই দুর্ঘটনার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠছে রাজধানীর পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িগুলির নিরাপত্তা নিয়ে। আপাতত অবশ্য সব নজর উদ্ধারকারীদের দিকে, ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে কত জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা যায়, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।