কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও রাজপথের ক্ষোভ পেছনে ফেলে রাজ্যের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের রূপরেখা প্রকাশ্যে এল। শিক্ষক দিবসের এক অনুষ্ঠানে রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্ব সাফ জানিয়ে দিলেন, মেধার ভিত্তিতেই ক্লাসরুমে যোগ্য প্রার্থীদের ফিরিয়ে আনা এখন প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার।
নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং স্বজনপোষণের সমস্ত ফাঁকফোকর বন্ধ করতে স্কুল সার্ভিস কমিশনের পরিচালনায় নেওয়া হয়েছে বেনজির পদক্ষেপ। আধ্যাত্মিক নিষ্ঠা ও প্রশাসনিক দক্ষতার মেলবন্ধন ঘটাতে কমিশনের দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়েছে রামকৃষ্ণ মিশনের তিন প্রবীণ মহারাজ এবং আইআইএমের একজন বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধির ওপর।
আদালতের সমস্ত আইনি দিক খতিয়ে দেখার পাশাপাশি বিধানসভায় ওবিসি সংরক্ষণ বিধিমালার অসঙ্গতিও সংশোধন করা হয়েছে। ব্যক্তিগত বার্তার গোপনীয়তা ভেঙে সরাসরি প্রকাশ্য মেধা তালিকার ভিত্তিতে বাছাই পর্ব চালানোর নির্দেশ এসেছে। পাশাপাশি মৌখিক পরীক্ষায় স্বজনপোষণ আটকাতে বরাদ্দ নম্বর ১৫ থেকে কমিয়ে মাত্র ৫ করার কড়া সুপারিশ রাখা হয়েছে, যাতে লিখিত পরীক্ষার নম্বরই প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করে।
একই সঙ্গে জোর দেওয়া হয়েছে ক্লাসরুমের পরিবেশ ও বিদ্যালয় পরিচালন পরিকাঠামো উন্নয়নের ওপর। মিড-ডে মিলের নথি তৈরি বা প্রশাসনিক কাজে শিক্ষকদের ব্যস্ত না রেখে তাঁদের একমাত্র দায়িত্ব হিসেবে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানকে নির্দিষ্ট করার ভাবনা শুরু হয়েছে। সেই লক্ষ্যে অশিক্ষক কর্মী, পরীক্ষাগার সহকারী এবং ঘণ্টা বাজানোর মতো সহায়ক পদে দ্রুত শূন্যপদ পূরণের ইঙ্গিত মিলেছে।
শুধু তাই নয়, উৎসব-কেন্দ্রিক খরচের চেয়ে স্কুল রক্ষণাবেক্ষণ ও পড়ুয়াদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা তুলে ধরে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় অতীতে মিত্র ইনস্টিটিউশনে তহবিল সংকটের জেরে বিষাক্ত সাপের উপদ্রব এবং ছাত্রের অসুস্থ হয়ে পড়ার মতো মর্মান্তিক ঘটনার কথা। সামগ্রিকভাবে অপ্রয়োজনীয় খাতের বদলে কম্পোজিট গ্রান্টের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে বাংলার প্রতিটি বিদ্যালয়কে নিরাপদ ও গতিশীল করে তোলার ডাক দেওয়া হয়েছে।