উত্তর ২৪ পরগনা, নিউজ ডেস্ক: বিয়ের কথা পাকা হয়েছিল। দুই পরিবারের মধ্যে কথাবার্তাও এগিয়েছিল বেশ কিছুটা। পাত্রপক্ষের কাছে নতুন সম্পর্কের শুরুটা নিয়ে কোনও বড় প্রশ্ন ছিল না। কিন্তু আচমকাই বদলে গেল পুরো পরিস্থিতি। এমন কিছু তথ্য সামনে এল, যা নিয়ে শুরু হল সন্দেহ। আর সেই সন্দেহের সূত্র খুলতে গিয়ে এমন কিছু রহস্য সামনে এল,যা শুনে কার্যত চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। শেষ পর্যন্ত ঘটনাটি পৌঁছল থানায়।
ঘটনাটি উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গার। অভিযোগ, বিয়ের নাম করে পাত্রপক্ষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতানোর জন্য অভিনব প্রতারণার ছক কষে ছিল এক দম্পতি। আর সেই প্রতারণার ছকের সবচেয়ে আশ্চর্যতম দিক হল যাকে পাত্রী হিসেবে সামনে আনা হয়েছিল, তাঁর পরিচয় ছিল ভুয়ো।
ওই প্রতারণার পরিকল্পনায় নিজের স্ত্রীকেই অন্য পরিচয় সামনে এনে নতুন করে বিয়ের সম্বন্ধ করেছিলেন অভিযুক্ত স্বামী। অভিযোগ অনুযায়ী, স্ত্রীকে নিজের ভাইঝি বলে পরিচয় দেওয়া হয়েছিল। এরপর সেই পরিচয় পাত্রপক্ষের সঙ্গে বিয়ের সম্বন্ধ করা হয়। জানা গিয়েছে, বিয়ের আয়োজনকে কাজে লাগিয়ে পাত্রপক্ষের কাছ থেকে মোটা টাকা হাতিয়ে নেওয়াই ছিল তাঁদের উদ্দেশ্য।
কিন্তু, কথায় বলে প্রতারণার জ্বাল যতই নিখুঁত হোক না কেন, কোথাও না কোথাও তার ফাঁক থেকে যায়। এক্ষেত্রেও তার ব্যাতিক্রম হয়নি। শেষপর্যন্ত তাঁদের পরিকল্পনায় জল ঢেলে দেয় পাত্রপক্ষের সন্দেহ। বিয়ের বিষয়টি এগোনোর সময় পাত্রী ও তাঁর পরিচয় নিয়ে একাধিক অসংগতি নজরে আসে বলে অভিযোগ পাত্রপক্ষের তরফে।
এরপর বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর শুরু করতেই সামনে আসতে থাকে একের পর এক অবিশ্বাস্য তথ্য। এরপরই প্রতারণার অভিযোগ নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন পাত্রপক্ষ। দেগঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে নেমে অভিযুক্ত স্বামী ও স্ত্রী দুজনকেই গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু একটি বিয়ের ক্ষেত্রেই এই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, এর পিছনে আরও কেউ জড়িত আছে কি না কিংবা এর আগে এইরকম ভাবে অন্য কোনও পাত্রপক্ষকে প্রতারণা করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও তদন্ত করছে প্রশাসন।
বিয়ের মতো একটি সুন্দর ও সামাজিক সম্পর্ককে সামনে রেখে কিভাবে পরিকল্পিতভাবে প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করা হয়েছিল, তা নিয়ে এখন চর্চা তুঙ্গে। পুলিশের তদন্ত শেষ হলেই পরিষ্কার হবে, এই ঘটনার নেপথ্যে ঠিক কত বড় প্রতারণার ছক ছিল।