পূর্ব মেদিনীপুর, নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের উপাসনালয় বা প্রতিষ্ঠানের ওপর সুসংগঠিত আক্রমণের অভিযোগ বাস্তব তথ্যের নিরিখে ভিত্তিহীন বলে স্পষ্ট করেছে স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনিক সূত্র। সম্প্রতি পূর্ব মেদিনীপুরের কয়েকটি জায়গায় তৈরি হওয়া স্থানীয় বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ মহল বৃহত্তর সাম্প্রদায়িক সংঘাতের বয়ান তৈরির চেষ্টা চালালেও, মাঠপর্যায়ের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। জেলার কোথাও কোনো গির্জা, মিশনারি সম্পত্তি বা প্রতিষ্ঠানে হামলা কিংবা ভাঙচুরের কোনো প্রমাণ মেলেনি।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক মাসে হলদিয়া মহকুমার তিনটি পৃথক স্থানে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে প্রার্থনা সভাকে কেন্দ্র করে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছিল। গত ৪ মে হলদিয়া, ২৭ জুলাই দুর্গাচক এবং ২৬ আগস্ট সুতাহাটায় এ ধরনের জমায়েত ঘিরে স্থানীয় স্তরে আপত্তি ওঠে।
তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে। এই তিনটি ঘটনার কোনোটিতেই পরবর্তীকালে নতুন করে কোনো অশান্তি হয়নি, এমনকি কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ বা এফআইআর দায়ের করার প্রয়োজন বোধ করেনি। প্রশাসনিক তৎপরতায় বিষয়গুলি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে মীমাংসা হয়ে যায়।
এর বাইরে সুতাহাটা থানার অধীন চৈতন্যপুরে গত ১ জুন একটি পৃথক ফৌজদারি মামলা রুজু হয়, যা কোনোভাবেই উপাসনালয় বা প্রার্থনা সভার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। স্টেট ব্যাঙ্ক সংলগ্ন এলাকায় হিন্দু দেবদেবী সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য সংবলিত প্রচারপত্র বিলির অভিযোগে এক স্থানীয় বাসিন্দার দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে পুলিশ দুই মহিলাকে গ্রেফতার করে। ধৃতেরা বর্তমানে জামিনে মুক্ত রয়েছেন এবং আইনের স্বাভাবিক গতিতেই মামলাটির তদন্ত চলছে।
প্রশাসনের কর্তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, সংবিধানের আওতায় প্রত্যেকের যেমন শান্তিপূর্ণ উপাসনার অধিকার রয়েছে, তেমনই ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত বা শান্তিভঙ্গের অভিযোগ উঠলে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া পুলিশের সাংবিধানিক দায়িত্ব। ফলে স্থানীয় স্তরের কিছু সাময়িক বিরোধ ও একটি নির্দিষ্ট ফৌজদারি তদন্তের ঘটনাকে বিকৃত করে বৃহত্তর ধর্মীয় নিপীড়ন হিসেবে তুলে ধরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছাড়া আর কিছুই নয়। বর্তমানে সমগ্র এলাকায় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক রয়েছে।