মুর্শিদাবাদ, নিউজ ডেস্ক: রান্নাঘরে হাড়িতে তখনও রান্না চলছে। ঘরের কাজও চলছিল স্বাভাবিক ছন্দে। আচমকায় সেই চেনা পরিবেশ যেন বদলে গেল। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই বাড়ির ভেতর থেকে এল চিৎকার এবং তারপর নিস্তব্ধতা। এরপর প্রতিবেশীরা ছুটে এলে যা দৃশ্য চোখে পরল, তা দেখে হতবাক স্থানীয়রা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশের সামনে উঠে এল একের পর এক প্রশ্ন।
মালদার হরিশচন্দ্রপুরে বাড়ির ভিতরে এক মহিলাকে খুনের অভিযোগ উঠেছে তাঁরই দেওরের বিরুদ্ধে। সূত্রে খবর, মৃতার নাম অমৃতা ওরাওঁ। বয়স ২৭ বছর। পুলিশ এই ঘটনায় তাঁর দেওর পাঁচু ওরাওঁকে গ্রেফতার করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সময় অমৃতা বাড়ির ভিতরে রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। সেই সময় আচমকা তাঁর উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। পাঁচু ওরাওঁ একটি কুড়ুল দিয়ে অমৃতার গলায় কোপ মারেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। গুরুতর আঘাতের জেরে ঘটনাস্থলে তাঁর মৃত্যু হয়।
এদিকে, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তে এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। প্রতিবেশীরা বাড়িতে ছুটে আসেন এবং খবর দেওয়া হয় হরিশ্চন্দ্রপুর থানাতে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অমৃতার মৃতদেহ উদ্ধার করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য দেহ পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার পর অভিযুক্ত পাঁচু ওরাওঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। তবে, ঠিক কি কারণে বৌদিকে এভাবে খুন করা হল, তা এখনও নিশ্চিত ভাবে জানা যায়নি।
প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, পরিবারের বিবাদ অথবা কোনও সম্পর্কজনিত টানাপড়েনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষকরে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে কোনও বিরোধ তৈরি হয়েছিল কি না, সেই দিকটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
তবে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত খুনের নেপথ্যের কারণ নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে নারাজ তদন্তকারীরা। ইতিমধ্যেই মৃতার পরিবারের সদস্য এবং আশেপাশের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলছেন তদন্তকারীরা। তাঁদের মধ্যে আগে কোনও বিষয় নিয়ে বিবাদ হয়েছিল কি না, সেসব তথ্যও জানার চেষ্টা চলছে। এছাড়াও তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে আরও একটি বিষয়। এই হামলা কি আচমকা, নাকি আগের থেকেই কোনও পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
সেই সঙ্গে খুনে ব্যবহৃত কুড়ুলটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। একদিকে তরুণী গৃহবধুর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারের শোকের ছায়া নেমে এসেছে ,অন্যদিকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জেরে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। তবে, ঠিক কি ঘটেছিল এবং কেন ঘটেছিল, তার উত্তর এখন পুলিশের তদন্তের অপেক্ষায়।