উত্তর ২৪ পরগনা, নিউজ ডেস্ক: একটি স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে আচমকা বদলে গেল এলাকার পরিস্থিতি। যে পথে যাওয়ার কথা ছিল সেখানে তৈরি হল বাধা। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে গাড়ির চারপাশে জমে গেল লোকজন এবং বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হল। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে ঘটনাস্থলে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার শাসনে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের প্রকাশ্যে এল তৃণমূল-বিজেপির সংঘাত।
ঘটনার কেন্দ্রে ছিলেন ডেবরা বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা প্রাক্তন আইপিএস অফিসার হুমায়ুন কবীর। সূত্রে খবর, তৃণমূলের একটি দলীয় বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য উত্তর ২৪ পরগনার শাসনে যাচ্ছিলেন তিনি। অভিযোগ, সেই সময় বিজেপি কর্মী সমর্থকেরা তাঁর গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করেন। এমনকি তাকে লক্ষ্য করে গো-ব্যাক স্লোগানও দেওয়া হয়। এরপর বেশ কিছুক্ষণ ধরে চলে বিক্ষোভ ও পাল্টা রাজনৈতিক উত্তেজনা।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় দ্রুত পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভের পাশাপাশি এলাকায় তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা শুরু হয়। তৃণমূলের অভিযোগ এই বিক্ষোভের সুযোগে তাঁদের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এমনকি, কয়েকজন তৃণমূল সমর্থককে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে শাসনের স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।
তবে, তৃণমূলের এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে বিজেপি। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, পার্টি অফিস ভাঙচুর কিংবা তৃণমূল কর্মীদের ওপর হামলার সঙ্গে তাঁদের দলের কোনও যোগসূত্র নেই। বিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে বিজেপির বিরুদ্ধে এধরনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলে পাল্টা দাবি তাঁদের। এদিকে, হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে বিক্ষোভের খবর ছড়িয়ে পড়তে শাসনে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। নতুন করে যাতে কোনও সংঘর্ষ বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেদিকেও নজর রাখছে প্রশাসন।
প্রাক্তন আইপিএস অফিসার ও প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে রাজনৈতিক বিক্ষোভ অবশ্য নতুন নয়। তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা নিয়ে আগেও একাধিকবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এবার শাসনে তাঁকে ঘিরে বিজেপির বিক্ষোভ সেই রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও একবার প্রকাশ্যে নিয়ে এল। তবে, অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের আবহে ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতির দিকে নজর রাজনৈতিক মহলের।