স্পোর্টস ডেস্ক: কলকাতা ডার্বির আগে ময়দানে উৎসবের বদলে নেমে এল শোকের কালো ছায়া। শনিবার রাতে পথ দুর্ঘটনায় প্রয়াত কলকাতা ময়দানের অন্যতম পরিচিত মুখ প্রাক্তন ফুটবলার আমজাদ আলি খান। ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান এবং মহামেডান স্পোর্টিং, কলকাতার তিন প্রধান ক্লাবেই খেলেছেন তিনি। সোমবার বারাসাত স্টেডিয়ামে হাইভোল্টেজ মহারণে মুখোমুখি হতে চলেছে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান। তার ঠিক আগেই আমজাদের আকস্মিক প্রয়াণে শোকস্তব্ধ ফুটবলমহল। যে ময়দানে এক সময় তাঁর পায়ের জাদু দেখার অপেক্ষায় থাকতেন সমর্থকেরা, সেই ময়দানেই এখন স্মৃতিচারণায় ভারী বাতাস।
আমজাদের বয়স হয়েছিল মাত্র ৪২ বছর। ছোটবেলা থেকেই ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ নেন টাটা ফুটবল অ্যাকাডেমিতে। সেখান থেকেই পেশাদার ফুটবলের দরজা খুলে যায়। ২০০২ সালে ইস্টবেঙ্গলে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। পরের বছর অল্প সময়ের জন্য খেলেন মোহনবাগানে।
এরপর ২০০৪ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত মহামেডান স্পোর্টিংয়ের জার্সিতেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। ময়দানের তিন প্রধানের হয়ে খেলার বিরল অভিজ্ঞতা ছিল তাঁর ঝুলিতে। কিন্তু ফুটবলজীবন দীর্ঘ হয়নি। চোটের কারণে অকালেই তাঁকে বুটজোড়া তুলে রাখতে হয়। যে বয়সে আরও বড় মঞ্চে নিজেকে মেলে ধরার কথা, ঠিক সেই সময়েই থেমে যায় তাঁর ফুটবল-যাত্রা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে নিজেই গাড়ি চালিয়ে হাওড়া-আমতা রোড ধরে হাওড়া থেকে কলকাতার দিকে ফিরছিলেন তিনি। তাঁর বাড়ি তপসিয়ায়। আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি ডাম্পারের পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে আমজাদের গাড়ি। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনি।
খবর পেয়ে দ্রুতই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ডোমজুড় থানার পুলিশ। দ্রুত তাঁকে ডোমজুড় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আচমকা এই দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ময়দানে নেমে আসে শোকের আবহ।
খেলা ছেড়ে দিলেও ফুটবলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেননি আমজাদ। বিভিন্নভাবে ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। তাই ময়দানের বহু মানুষের কাছেই ছিলেন পরিচিত ও আপনজন। তাঁর অকালমৃত্যুর খবর স্বভাবতই গভীর ভাবে নাড়া দিয়েছে কলকাতার ফুটবল মহলকে।
অনেকেরই আক্ষেপ, চোট যদি তাঁর কেরিয়ারের পথে বাধা না হয়ে দাঁড়াত, তা হলে হয়তো আরও অনেক দূর যেতে পারতেন এই প্রতিভাবান ফুটবলার। বড় ম্যাচের উত্তেজনার ঠিক আগে তাঁর চলে যাওয়া যেন ময়দানের উৎসবের মাঝেই এক বিষণ্ণ বিরতি।