স্পোর্টস ডেস্ক: একের পর এক ধাক্কায় বেসামাল পাকিস্তান ক্রিকেট। সেই আবহে একদিকে ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে ১০ উইকেটের ঐতিহাসিক জয়কেই যখন দলের পতনের অন্যতম কারণ বলে দাবি করলেন প্রাক্তন অধিনায়ক মহম্মদ ইউসুফ। ঠিক সেই সময়ই সামনে এল আরও একটি তাৎপর্যপূর্ণ খবর।
আইপিএলের সঙ্গে টক্করে বিজ্ঞাপন এবং স্পনসরশিপ থেকে প্রত্যাশিত আয় না হওয়ায় আগামী বছর পাকিস্তান সুপার লিগের সময়ই বদলে ফেলার ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে পাক বোর্ডের অন্দরে। সব কিছু ঠিক থাকলে ২০২৭ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে হতে পারে পিএসএল। জানা যায় যাচ্ছে এমনটাই।
গত ১ সেপ্টেম্বর লন্ডনে বসেছিল পাকিস্তান সুপার লিগের গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠক। সেখানেই আগামী মরশুমকে বছরের শুরুতে সরিয়ে আনার প্রস্তাব ওঠে। প্রতিযোগিতাটির মিডিয়া স্বত্বাধিকারী Walee Technologies-এর তরফেই মূলত এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে খবর।
সংস্থাটির বক্তব্য, এপ্রিল-মে মাসে পিএসএল চলার সময়ই ভারতের মাটিতে আইপিএল হওয়ায় বিজ্ঞাপন এবং স্পনসরশিপের বাজারে জোরদার ধাক্কা খেয়েছে পাকিস্তানের লিগটি। ফলে একই সময়ে দুই দেশের দুই জনপ্রিয় টি-টোয়েন্টি লিগের সংঘাত এড়িয়ে আলাদা উইন্ডো তৈরির লক্ষ্যেই জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিকে সম্ভাব্য সময় হিসেবে ভাবা হচ্ছে।
এই সময় বদলের প্রস্তাবকে অবশ্য পাকিস্তান ক্রিকেটের সামগ্রিক সংকট থেকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। ইউসুফের মতে, ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতকে হারানোর পরই বিরাট বদল এসেছিল দলের কয়েকজন ক্রিকেটারের মানসিকতায়। বাবর আজম ও মহম্মদ রিজওয়ানের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ১০ উইকেটে জয় পাওয়ার পর ক্রিকেটারেরা বড় কিছু করে ফেলেছেন বলে ধরে নিয়েছিলেন। এমনই দাবি ইউসুফের।
সাফল্যের পর আরও পরিশ্রমের মানসিকতা এবং বিনয়ের পরিবর্তে কয়েকজনের মধ্যে আত্মতুষ্টি বাসা বেঁধেছিল বলে মনে করেন তিনি। পাশাপাশি অধিনায়ক হওয়ার দৌড়ও দলের মধ্যে বিভাজন বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাক্তন পাক অধিনায়ক। ফলে, গত কয়েক বছরে অধিনায়ক, কোচ এবং সাপোর্ট স্টাফ বদলালেও ধারাবাহিক সাফল্য আসেনি।
এরই মধ্যে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে জঘন্য পারফরম্যান্সের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও অন্যান্য দলের বিরুদ্ধে হতাশাজনক ফল মহসিন নকভির বোর্ডকে বাধ্য করেছে কঠোর পদক্ষেপ করতে। সফরের মাঝখানেই দেশে ফেরানো হয়েছে ৭ ক্রিকেটারকে। বিকল্প হিসেবে যাঁদের নেওয়া মধ্যে, তাঁদের মধ্যে ৫ জনেরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়নি এখনও। এমনকি কোচিং স্টাফেও এসেছে বদল।
এই পরিস্থিতিতে পিএসএলের সময় বদলের উদ্যোগও যেন পাকিস্তান ক্রিকেটের সামগ্রিক সংকটের ছবিটাই সামনে আনছে। ভারতীয় ক্রিকেটের বিপুল বাণিজ্যিক প্রভাবের সঙ্গে একই মঞ্চে লড়াই করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। তাই এক দিকে ইউসুফের চোখে ২০২১-এর জয় যেমন হয়ে উঠছে আত্মতুষ্টির প্রতীক। অন্যদিকে আইপিএলের সঙ্গে সংঘাত এড়াতে পিএসএলকে সরিয়ে নেওয়ার ভাবনা পাক ক্রিকেটের বর্তমান করুণ দশারই আর এক প্রতিচ্ছবি।