কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: উৎসবের মরশুম আসছে। শহর জুড়ে এখন পুজোর প্রস্তুতি। কলকাতার অলিগলি থেকে বড় রাজনৈতিক মঞ্চ, সব জায়গাতেই যেনো শুরু হয়েছে নতুন করে প্রস্তুতির আভাস। সামনে পূজো তারপরেই শহরের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ সময়। আর তার আগেই শুরু হয়েছে নতুন প্রস্তুতি। কোথাও পরিষেবার কাজ, কোথাও সাধারণ মানুষের সমস্যা শোনা, আবার কোথাও শহরের ভবিষ্যৎ নিয়ে মতামত নেওয়া হচ্ছে। তবে, এর পিছনে যে আগামী দিনে বড় রাজনৈতিক লক্ষ্য রয়েছে, তার কিছুটা ইঙ্গিত মিলল বিজেপি নেত্রী পাপিয়া অধিকারীর বক্তব্যে।
আসন্ন কলকাতা পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার প্রস্তুতি শুরু করেছে গেরুয়া শিবির। মানুষের কাছে পৌঁছনোর পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে দলের। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এমনটাই জানান বিজেপি নেত্রী পাপিয়া অধিকারী।
তিনি জানান, বিজেপি একটি 'সুশৃঙ্খল দল' এবং দলের বিভিন্ন কর্মসূচি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা মেনে পরিচালিত হয়। নির্বাচনকে সামনে রেখে কিভাবে এগোনো হবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা হয়েছে। দলের তরফে যে নির্দেশগুলি দেওয়া হয়েছে সেই অনুযায়ী কাজ করা হবে বলে জানান তিনি।
পুরভোটে বিজেপির অগ্রাধিকার কি থাকবে, তা নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি। পাপিয়ার কথায়, একটাই ফোকাস কলকাতার মানুষ। শহরের রাস্তার সংস্কার থেকে শুরু করে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি, কলকাতা দুর্গাপুজোকে আরও বড় আকারে তুলে ধরা নিয়েও পরিকল্পনা রয়েছে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক কর্মসূচি নয় মানুষের কাছে পৌঁছতে সেবামূলক কাজকেও হাতিয়ার করতে চাইছে দল।
তিনি জানান, সামনে সেবাপক্ষ কাল। প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন এবং পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হবে। এছাড়াও ফল বিতরণ, রাস্তার পরিছন্নতা, ব্লিচিং ও বস্তি এলাকায় গিয়ে সেবামূলক কাজ করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
তবে, সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে প্রবীণ ও বিশিষ্ট নাগরিকদের নিয়ে বৈঠকের ঘোষণা। পাপিয়া জানান, কলকাতার উন্নয়ন নিয়ে তাঁদের কাছ থেকে মতামত নেওয়া হবে। শহরকে কিভাবে আরও পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা যায়, তা জানতে তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসবে বিজেপি।
পাপিয়ার দাবি, এর আগে এই ধরনের উদ্যোগ কোনও রাজনৈতিক দলের তরফ থেকে নেওয়া হয়নি। এই কর্মসূচির দায়িত্ব তাঁকেই দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। পুজোর আগেই এই বৈঠক হবে কি না জানতে চাইলে, তার উত্তর তিনি ইতিবাচক জানান। ফলে, উৎসবের আগেই কলকাতায় বিজেপির জনসংযোগ কর্মসূচি আরও জোরদার হতে চলেছে বলে মনে করেছে রাজনৈতিক মহল।