জলপাইগুড়ি, নিউজ ডেস্ক: আকাশের দিকে তাকিয়ে নয়, এবার নদীর জলের দিকেই নজর জলপাইগুড়ির তিস্তাপাড়ের বাসিন্দাদের। রবিবার বিকেলে আচমকাই এলাকায় প্রশাসনের মাইকিং ঘিরে তৈরি হল কৌতূহল ও উদ্বেগ।এলাকাবাসীদের নদীর কাছে না যেতে বলা হচ্ছে, সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। কিন্তু হঠাৎ এই সতর্কবার্তার কারণ কি? যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও বড় বিপর্যয় ঘটেনি, নদীর জল স্বাভাবিক রয়েছে, তাহলে হঠাৎ এই সতর্কবার্তার কারণ কি? একের পর এক প্রশ্ন ঘুরতে থাকে স্থানীয়দের মনে।
জলপাইগুড়ির তিস্তা পাড়ে এমনই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সূত্রে খবর, রবিবার বিকেলে খড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সারদাপল্লী, সুকান্তনগর, বালাপাড়া, বিবেকানন্দপল্লী এলাকায় প্রশাসনের তরফে মাইকিং করে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়। তিস্তা নদীর একেবারে লাগোয়া এই এলাকাগুলিতে প্রশাসনের বাড়তি নজরদারিও শুরু হয়েছে।
প্রশাসনের তরফে স্থানীয় বাসিন্দাদের নদীতে না নামার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি, তিস্তা নদীর গতিপ্রকৃতির উপরও নজর রাখতে বলা হয়েছে। কারণ পাহাড়ে জমে থাকা জল হঠাৎ নিচে নেমে এলে তার প্রভাব তিস্তায় পড়তে পারে বলে মনে করা হয়েছে।
এরই মধ্যে সামনে এসেছে উদ্বেগের আসল কারণ। উত্তর সিকিমের মঙ্গন জেলার চুংথাং মহকুমার চ্যাকুং ও তিস্তা নদীর সঙ্গমস্থলে ভয়াবহ ভূমিধস হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এমনকি, ধসের বিপুল ধ্বংসস্তূপে নদীর প্রবাহ কিছুটা আটকে গিয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। সেখানে জল জমে যাওয়ায় নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রশাসনের আশঙ্কা, ধসের জায়গায় জমে থাকা জল হঠাৎ করে নিচের দিকে নেমে এলে তিস্তায় তা প্রভাব ফেলতে পারে। এবং এরফলে নদীর জলস্তর বেড়ে গেলে নদী পাড়ের এলাকাগুলিতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই, আগের থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।
যদিও এই আশঙ্কার সঙ্গে তিস্তাপাড়ের মানুষের ২০২৩ সালের ভয়াবহ স্মৃতিও জড়িয়ে রয়েছে। ওই বছর অক্টোবর মাসে সিকিমের লোনাক হ্রদ বিপর্যয়ের পর তিস্তায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। জলপাইগুড়ির তিস্তাসংলগ্ন একাধিক এলাকাও সেই বিপর্যয়ের প্রভাব থেকে রেহাই পায়নি।
তবে, বর্তমানে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। তিস্তার জলপ্রবাহ এখনও স্বাভাবিক আছে। পাহাড় থেকে নেমে আসা জলের গতিপ্রকৃতি ও নদীর জলস্তরের উপর কড়া নজরদারি রাখা হয়েছে। তবে, প্রশাসনের দিক থেকে আতঙ্কিত নয় বরং সতর্ক থাকতে বার্তা দেওয়া হয়েছে তিস্তা পাড়ের বাসিন্দাদের।