আমেরিকা,নিউজ ডেস্ক: চিকিৎসা বিজ্ঞানের অবাক অগ্রগতি! কিডনি বিকল,সামনে অনিশ্চিত অপেক্ষা। সেই অপেক্ষার সময়টুকুই সামাল দিল 'অন্য কিডনি'! অসম্ভব, কিন্তু দুনিয়া চমকে দেওয়ার নজির বানালেন আমেরিকার ৬৬ বছরের প্রবীণ টিম অ্যান্ড্রুজ। যাঁর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল জিন-পরিবর্তিত শুকরের কিডনি! সেই কিডনি তাঁকে ২৭১ দিন ডায়ালিসিস ছাড়াই রেখেছিল। এরপর শুকরের কিডনি সরিয়ে শরীরে সফল ভাবে প্রতিস্থাপন করা হয় মানব-কিডনি।
ঘটনাটি প্রকাশিত হয় 'ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতাল' এবং, সেখানকার গবেষকদের একটি রিপোর্টে। রিপোর্টটি প্রকাশ হয় ‘দ্য লয়ানসেট’ পত্রিকায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ- ১)শুধু দীর্ঘ সময় কিডনি কাজ করার জন্য নয়, বজিন-পরিবর্তিত শুকরের কিডনি ভবিষ্যতে মানব-কিডনি পাওয়ার আগে অবধি ঢাল হিসেবে কাজ করে। এই চিকিৎসার অনুমোদন মিলেছিল এফডিএ-এর এক্সপ্যান্ডেড এক্সেস ইনভেস্টিগেশনাল নিউ ড্রাগ ব্যবস্থায়। ২) অস্ত্রোপচারের পর কিডনিটি দ্রুত কাজ শুরু করে। কিন্তু,সময়ের সঙ্গে কিডনিটির কার্যক্ষমতা কমে। ফলে, কিডনির রক্তনালিতে ক্ষত ও প্রদাহের চিহ্ন মেলে। সংক্রমণের কারণে ছ’মাস পর অ্যান্ড্রুজকে ইমিউনোসাপ্রেসিভ ওষুধও কমিয়ে দিতে হয়ে। তবে, শুকরের কিডনিটি সরিয়ে তাঁকে ফের ডায়ালিসিসে ফিরতে হয়।
মানুষের শরীরে ব্যবহৃত কিডনিটি ছিল বিশেষ ভাবে জিন-পরিবর্তিত। শুকরের অঙ্গ মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। মানবদেহ শুকরের অঙ্গকে ‘ফরেন বডি’ শনাক্ত করে, দেখায় তীব্র প্রতিক্রিয়া। সেই সমস্যা কমাতেই ওই শুকরের জিনে একাধিক পরিবর্তন করা হয়। অ্যান্ড্রুজকে দেওয়া কিডনিতে মোট ৬৯টি জিনগত পরিবর্তন ছিল।
২০২৪ সালে প্রথম জীবিত মানুষের শরীরে জিন-পরিবর্তিত করা শুকরের কিডনি প্রতিস্থাপন হয়েছিল। সেই প্রতিস্থাপনও করেছিল 'ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতাল।' যদিও রোগীটি ৫২ দিন বেঁচেছিলেন। তাই, অ্যান্ড্রুজের ক্ষেত্রে ২৭১ দিন ডায়ালিসিস ছাড়া থাকা চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাফল্যের মুকুটে আরও একটি পালক বৈকি!