কলকাতা, নিউজ ডেস্ক - জন্মাষ্টমী উৎসবের আবহে স্বাভাবিকভাবেই ব্যস্ততা ছিল চারপাশে। আচমকাই যেন বদলে গেল পরিস্থিতি। বিকট শব্দে কেঁপে উঠল এলাকা। মুহূর্তের মধ্যে রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ল ধুলো ও ইট পাথরের ধ্বংসস্তূপ। শব্দ শুনে ঘর থেকে ছুটে বেরিয়ে আসে স্থানীয়রা। চোখের সামনে এমন দৃশ্য দেখে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে একে একে পৌঁছয় পুলিশ, দমকল এবং কলকাতা পুরসভার কর্মীরা।
শুক্রবার উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুর থানা এলাকার রাজা নবকৃষ্ণ স্ট্রিটে ভেঙ্গে পড়ে একটি পুরনো বাড়ি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুপুর প্রায় তিনটে নাগাদ আচমকাই বাড়িটি ভেঙ্গে পড়ে। বিকট শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও কলকাতা পুরসভার কর্মীরা। এরপর শুরু করা হয় উদ্ধার কাজ। ভেঙ্গে পড়া বাড়ি থেকে এখনও পর্যন্ত দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে, তাঁদের মধ্যে কেউ গুরুতরভাবে আহত হয়নি। ফলে বড়সড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হয়েছে।
তবে, ধ্বংস স্টূপ এর মধ্যে আরও কেউ আটকে রয়েছে কি না, তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়। সেইকারণে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এমনকি ঘটনাস্থলে পুলিশ কুকুরও নিয়ে আসা হয়েছে আটকে পড়া ব্যক্তিদের দ্রুত সন্ধানের জন্য। পাশাপাশি, বাড়ির বিভিন্ন অংশ খতিয়ে দেখছে উদ্ধারকারী দল। জানা গিয়েছে, বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরেই জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। কলকাতা পুরসভার তরফে আগেই সেটিকে বিপদজনক বাড়ি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, বাড়িটি বিপদজনক ঘোষণা করার পরেও কয়েকজন সেখানে বসবাস করতেন। ফলে, এই দুর্ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িটিতে কিভাবে এভাবে বসবাস চলছিল।
এদিকে, গত কয়েকদিন ধরে কলকাতায় টানা বৃষ্টি হচ্ছে। টানা বৃষ্টির জেরে পুরনো বাড়িটির কাঠামো আরও দুর্বল হয়ে গিয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হয়েছে। তবে, বৃষ্টির কারণেই বাড়িটি ভেঙে পড়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত ভাবে জানা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে পুরসভা এবং পুলিশ আধিকারিকরা। বিপদজনক একটি বাড়িতে কিভাবে বসবাস করা সম্ভব এই কথাও সামনে আসছে। জন্মাষ্টমীর আনন্দের আবহে আচমকা এই ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তবে, দুজনকে নিরাপদে উদ্ধার করাতে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে স্থানীয়রা। এখন ধ্বংসস্তুপের নিচে আরও কেউ রয়েছে কি না, উদ্ধারকারী দলের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।