দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নিউজ ডেস্ক - কয়েক মিনিট আগেও রাস্তায় ছিল মানুষের স্বাভাবিক চলাচল। বাজারে মানুষের ভিড়, দোকানের ব্যস্ততা, কেউ ভাবতে পারেননি পরের মুহূর্তে বদলে যাবে গোটা পরিস্থিতি। আচমকা তৈরি হল ব্যাপক উত্তেজনা। দোকানে ঝাপ নামতে শুরু করলো এবং পথচারীরা নিরাপদ স্থানে সরে গেলেন। তারপর রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায় ইট-পাটকেল। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ।
সূত্রে খবর, শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙ্গড় সংলগ্ন জীবনতলায এলাকায় রাজনৈতিক সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। শুক্রবার একটি হামলার প্রতিবাদে শনিবার সকালে জীবনতলা বাজার এলাকায় সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ মিছিল বের করেন আইএসএফ ও সিপিএম কর্মীরা।
অভিযোগ, মিছিলটি বিজেপি কার্যালয়ের সামনে পৌঁছতেই পরিস্থিতি আচমকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আইএফএফ ও বাম কর্মীদের অভিযোগ, বিজেপির কর্মী সমর্থকরা এই মিছিলে হামলা চালান। এরপর, এই দুপক্ষের মধ্যে শুরু হয় বচসা এবং হাতাহাতি। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শুরু হয় লাঠালাঠি এবং ইট-পাটকেল ছোড়াছুড়ি। এই রাজনৈতিক সংঘর্ষের জেরে জীবনতলা বাজার এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রের আকার নেয়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় জীবনতলা থানার পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুপক্ষকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন পুলিশকর্মীরা। এমনকি, পরিস্থিতি সামাল দিতে লাঠিচার্জ করা হয় বলেও জানা গিয়েছে। পরে সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। বারুইপুর জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় ৯ জন আহত হয়েছেন। যদিও রাজনৈতিক দলগুলির পক্ষ থেকে দাবি করা হয় আহতর সংখ্যা অনেক বেশি। তাঁদের দাবি অনুযায়ী, আহতদের সংখ্যা প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন।
ঘটনার পর থেকেই জীবনতলা এলাকায় এক চাপা উত্তেজনা রয়েছে। আবার যাতে নতুন করে কোনও সংঘর্ষ না বাধে, তারজন্য এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন পুলিশ আধিকারিকেরা। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, শুক্রবারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবারের প্রতিবাদ মিছিল থেকেই এই অশান্তির সূত্রপাত। হামলার অভিযোগ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। একই সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িতদের চিহ্নিত করার কাজও চলছে। ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও।