স্পোর্টস ডেস্ক: এক ঐতিহাসিক সন্ধ্যার অপেক্ষায় দিন গুনছে ভারতীয় ফুটবল। আগামী ৩ অক্টোবর সল্ট লেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে প্রথমবার আন্তর্জাতিক ফ্রেন্ডলি ম্যাচে ৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হতে চলেছে ভারত। তার আগে ভারতীয় দলের জন্য বড়সড় বার্তা দিলেন ব্রাজিলের প্রাক্তন অধিনায়ক কাফু। শুক্রবার পিল্লাই বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে তিনি স্পষ্ট জানালেন, র্যাঙ্কিংয়ের বিচারে দুই দলের মধ্যে বিস্তর ফারাক থাকলেও ফুটবল এখন অনেকটাই বদলে গিয়েছে। ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে খেলাটাই ভারতীয় ফুটবলারদের কাছে বড় শিক্ষার সুযোগ বলে মনে করছেন তিনি।
কাফুর কথায়, "র্যাঙ্কিংয়ের দিকে তাকালে ভারত এবং ব্রাজিলের মধ্যে পার্থক্য কার্যত আকাশ-পাতাল। তবে ফুটবল এখন আধুনিক হয়েছে।" তাঁর মতে, এই ম্যাচ শুধু ভারতীয় দলের কাছেই নয়, দেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপের প্রসঙ্গ টেনে কাফু বলেন, ছোট দেশগুলিও এখন বড় দলগুলির বিরুদ্ধে সমানে লড়াই করছে। কুরাসাও ও কাবো ভার্দের মতো দলগুলি ২০২৬ বিশ্বকাপে বড় ফুটবল শক্তির বিরুদ্ধে সমান তালে খেলেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ফলে ভারতের কাছেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের উন্নতির সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন ব্রাজিলের জার্সিতে ১৯৯৪ এবং ২০০২ সালের বিশ্বকাপ জেতা ডিফেন্ডার।
ভারতীয় ফুটবলের উন্নতির পথও বাতলে দিয়েছেন কাফু। তাঁর মতে, আরও বেশি সংখ্যক শিশুকে ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। খেলাটিকে জনপ্রিয় করার পাশাপাশি বিশ্বের সফল ফুটবল স্কুলগুলির কাছ থেকেও শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও চিনের উদাহরণ টেনে কাফু বলেন, ওই দেশগুলি ব্রাজিলীয় কোচ ও ফুটবলারদের নিয়ে এসে ফুটবলের ভিত শক্ত করেছিল। ভারতের কাছেও সেই পথ খোলা রয়েছে। একই সঙ্গে ২০৩০ বিশ্বকাপ থেকে দলসংখ্যা ৬৪ করার ফিফার প্রস্তাব ভারতীয় ফুটবলের জন্য নতুন দরজা খুলে দিতে পারে বলেও মত তাঁর। সব মিলিয়ে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নামার আগেই সে দেশের প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়নের এই পরামর্শ যে ভারতীয় ফুটবলের জন্য এক বড় প্রাপ্তি হয়ে রইল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
তবে নিজের দেশের ফুটবল নিয়েও যথেষ্ট আক্ষেপ রয়েছে কাফুর। ২০০২ সালের পর আর বিশ্বকাপ জিততে পারেনি সেলেকাওরা। ২০৩০ বিশ্বকাপেই সেই খরা কাটবে বলে আশাবাদী তিনি। তাঁর মতে, খুব কম বয়সে ইউরোপে চলে যাওয়ার কারণে অনেক ব্রাজিলীয় ফুটবলারের সঙ্গেই জাতীয় দলের সেভাবে পরিচয় তৈরি হচ্ছে না। যা তাঁদের প্রজন্মে ছিল। ৫৬ বছর বয়সী কাফুর নিজের সময়ের ফুলব্যাকদের কথাও উঠে এসেছে। জানিয়েছেন, এক ম্যাচে তিনি ২২ কিলোমিটার পর্যন্ত দৌড়েছেন। এখন দুই প্রান্তে উইঙ্গার থাকায় ফুলব্যাকদের আক্রমণে ওঠার সুযোগ কমেছে। "আমরা কোচের কথা খুব একটা শুনতাম না, খেলাটাকেই ভালবাসতাম", হাসতে হাসতে বলেন প্রাক্তন তারকা কাফু।




