নিউজ ডেস্ক: উৎসবের দিনে রাজধানীর রাজপথে এমন এক দৃশ্য দেখা গেল, যা ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক আলোচনা। দশেরার পরিচিত রীতি, অশুভ শক্তির প্রতীকি বিনাশ, সেই প্রথাকে এবার রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার মঞ্চ হিসাবে ব্যবহার করা হল। হাতে প্রতিবাদের স্লোগান, সামনে বিতর্কিত ছবি আর তারপরেই আগুনের শিখা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা।
২০ অক্টোবর, মঙ্গলবার, দশেরার দিনে নয়া দিল্লিতে বিক্ষোভ দেখালো কংগ্রেস ছাত্র সংগঠন ন্যাশনাল স্টুডেন্ট ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া। বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবি লাগানো রাবণের কুশপুত্তলিকা পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। তাঁদের মূল দাবি, দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে। নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করতেই এই কর্মসূচি বলে জানা গিয়েছে।
দশেরায় রাবণ দহনের সঙ্গে অন্যায় ও অশুভ শক্তি বিনাশের প্রতীকি যোগ রয়েছে। এই সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক প্রতিবাদের ভাষা তৈরি করেছে বিক্ষোভকারীরা। প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করে কুশপুত্তলিকা দাহ করার ঘটনায় প্রতিবাদের বার্তা আরও তীব্র হয়েছে। তবে, এই কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে কি প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়, সেই দিকে নজর রয়েছে।
https://x.com/the_hindu/status/2112456410223264109?s=20
ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে নানা প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে কয়েকটি পোস্টে রাবণের চরিত্রকে কেন্দ্র করে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করা। কোথাও রাবণের সঙ্গে দেশদ্রোহের তুলনা টেনে রাজনৈতিক কটাক্ষ করা হয়েছে, আবার কোথাও দাবি উঠেছে প্রতিবাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশনের প্রধান নন, প্রধানমন্ত্রীও হওয়া উচিত।
এই ঘটনা এই নির্বাচন কমিশনারের নিরপেক্ষতা এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে। বিরোধী শিবিরের একাংশের অভিযোগ নির্বাচন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্নের যথাযথ উত্তর প্রয়োজন। অন্যদিকে, এই ধরনের প্রতিকী প্রতিবাদ রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও তীব্র করতে পারে বলে মনে করা হয়েছে।
তবে, বিক্ষোভকারীদের দাবি এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিক্রিয়ার বাইরে নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগের প্রসঙ্গে নতুন কোনও সরকারি সিদ্ধান্তের তথ্য সামনে আসেনি। দশেরার দিনে কুশপুত্তলিকা দাহের এই কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক বিতর্ককে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেদিকেই নজর।




